নীলফামারীর চার উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দিতেও দুর্নীতি

75

শাহজাহান আলী মনন: নীলফামারী সদর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের কাজে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের পর নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এবার জলঢাকা, ডোমার ও ডিমলায় হরিলুটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ মিলেছে। ওই দপ্তরের বড় কর্তার প্রশ্রয়ে গড়ে উঠেছে একটি চক্র। আর ওই চক্রটি টার্গেট এলাকার সহজ-সরল মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। চার উপজেলা থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় সোয়া দুইশ’ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার ওই চার উপজেলায় চলমান আছে ১.৫ এমসিসিপি, ১০০% ডিএনই ও ইউআরআইডিএস প্রকল্পের কাজ । ওই তিন প্রকল্পে ১২৯৪ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণাধিন প্রকল্পে সুবিধাভোগী গ্রাহক সংখ্যা ৫৯ হাজার ৬৫৮ জন। প্রতি কিলোমিটারে ২০টি করে পোল স্থাপন করা হবে বলে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প এলাকার একাধিক গ্রাম থেকে ভূক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেন যে, একটি দালাল চক্র এলাকায় নিজেদের নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লোক পরিচয় দিয়ে পোল প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করছে। টাকা পেলে দ্রুত সময়ে পোল এসে যাচ্ছে এলাকায়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে পোল দেয়া হচ্ছে না। নীলফামারী অফিসে গিয়েও কাজ হচ্ছে না। সেখানেও দালালদের দৌরাত্ব। নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হলে তিনি বলেন পোল নেই সময় হলে লাইন নির্মাণ হবে।

ডিম-এফ-১৫১ নম্বর লডের গ্রাহকরা বলেন, আমরা নীলফামারী অফিসে পোলের জন্য গিয়েছিলাম। অফিস জানায় পোল নেই। অথচ ওই অফিসে বাইরে দালাল চক্র বলে টাকা দিন কালকেই এলাকায় পোল পৌঁছে যাবে।তবে সরেজমিনে দেখা গেছে উত্তর সোনাখুলি সবুজপাড়া গ্রামের ওই লডের মাথায় কিছু গ্রাহক ৩২ হাজার টাকার বিনিময়ে দালাল জাহাঙ্গীর ও ঠিকাদার কালামের মাধ্যমে ৪টি পোল স্থাপন করেছে। দালাল চক্রকে টাকা দিলেই দ্রুত পোল পাওয়া যাচ্ছে খবরটি চাউর হয়ে পড়লে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে।

অন্যদিকে ঠাকুরগঞ্জ গ্রামে ডিম-বি ১০২ নম্বর লটে সাড়ে তিন কিলোমিটার লাইন সম্পন্ন হয়েছে। লাইন স্থাপনে স্থানীয় কিছু ভিআইপি দালাল প্রায় এলাকার ২শ’ গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে তুলে নিয়েছে। আরও ৫ হাজার করে দাবি করেছে দালাল চক্রটি। গ্রাহকরা দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় এখনো বাসা-বাড়িতে সংযোগ নিতে পারেনি ওই এলাকার ২শ’ গ্রাহক। অভিযোগ রয়েছে, ঠাকুরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাবিব মাস্টার ও মাজেদুল ইসলাম বাতাসু গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। ২শ’ গ্রাহকের কাছ থেকে ওই চক্রটি প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ডিমলা-০৬ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক প্রভাষক মোখলেছার রহমান বলেন, এলাকায় দালালের অভাব নেই। সমিতির বোর্ড মিটিংয়ে দালাল বিষয়ে কথা হয়েছে। দালালদের ধরতে আইন আছে, কেন প্রয়োগ হচ্ছেনা আমাদের জানা নাই। আমাদের দাবি দালালদের ধরে পুলিশে দেওয়া হোক। তাহলে এই টাকা নেয়া বন্ধ হবে।

নীলফামারীর ৪টি উপজেলায় তিন প্রকল্পের কাজে দূর্ণীতি ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাফিউল ইসলাম বলেন, টাকা লেনদেন হলে আমার কিছুই করার নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here