ভয়াল ২১ শে আগস্ট : ত্যাগী কর্মীদের মানবঢালে বেঁচে যান শেখ হাসিনা!

36
নূরুল আলম আবিরঃ আজ ভয়াল ২১ শে আগস্ট। ২০০৪ সালের আজকের দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ইতিহাস কলঙ্কিত করা এ হামলার সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। তদন্ত রিপোর্টের তথ্যমতে, ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে এমন ভয়াবহ হামলা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর কর্মীরা সেদিন মানবঢাল রচনা করতে এতটুকু বিলম্ব করলে, আজ হয়ত তাঁর নামও লেখা থাকতো নিহত শহীদদের তালিকায়।
ভাগ্য ভালো নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের অভূতপূর্ব ত্যাগের দৃষ্টান্তে রচিত মানবঢাল ও মহান আল্লাহর করুণার বর্ষণেই কেবল তিনি বেঁচে যান। সেদিনের এ ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪টি তাজা প্রাণ হতবাক হয়ে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। হেরে যেতে বসে মানবতা। সবুজ বাংলার হৃদয় প্রকম্পিত করা ওইসব হামলার হোতাদের অনেকেই এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে না পারলে, শংকা থেকে যায় আরো একটি ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত নৃশংস সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা তাদের অন্যতম। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক জনসমাবেশে জড়ো হয়েছিলেন সিনিয়র নেতারা। দলটির প্রধান এবং তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ছিলেন ওই সমাবেশের প্রধান অতিথি। আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে রাস্তায় একটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। বিকাল ৩টা থেকে দলের নেতারা বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।
বিকাল ৪টার দিকে শুরু হয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা তখনও এসে পৌঁছাননি। দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে তিনি এলেন। বজ্রকণ্ঠে শুরু করলেন সন্ত্রাস বিরোধী বক্তব্য। তাঁর বক্তব্যের শেষের দিকে গর্জে উঠে ঘাতকের অসংখ্য গ্রেনেড। অজস্র গ্রেনেডের তাণ্ডব চলে, অজস্র-অগণিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর। দফায়-দফায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। সমাবেশে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রথমে বুঝতে পারেননি যে, এটি গ্রেনেড হামলা। অনেকেই ভেবেছিলেন, বোমা হামলা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন।
যখন গ্রেনেড হামলা শুরু হয়, তখন মঞ্চে বসা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা শেখ হাসিনার চারপাশ ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেন। যাতে করে শেখ হাসিনার গায়ে কোনো আঘাত না লাগে। তারপরও তিনি রক্তাক্ত আহত হন। ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান। তিনি পরে মারা যান। ওই গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন প্রাণ হারান। এতে আহত হয় আরও অনেকে। গ্রেনেড হামলায় আহতদের অনেকেই এখনও শরীরে ভয়ংকর আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের অনেককেই এ করুণ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here