ট্রেনের বগিতে ক্ষতবিক্ষত তরুণীর লাশ: ধর্ষণের পর হত্যা

81
নূরুল আলম আবিরঃ ঢাকার কমলাপুরে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগি থেকে উদ্ধার হওয়া মাদরাসা ছাত্রী আসমা খাতুনকে (১৭) ধর্ষণের পর ভয়ংকরভাবে নির্যাতন শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আসমার শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ ও নিহত আসমার পরিবারের সন্দেহের তীর আসমার প্রেমিক বাঁধনের দিকে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্তের পর এমন দাবী করেছেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস।
সাংবাদিকদের তিনি জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আসমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করার আলামত মিলেছে। তার গলায় কালো দাগ, ডান স্তনে ক্ষত দাগ, নাকে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হত্যার আগে আসমা এক না একাধিক ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাই-ভ্যাজাইনাল সফট টিস্যু, রক্ত ও ভিসেরা সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এগুলোর রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বলা যাবে।”
এর আগে সোমবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বলাকা কমিউটার ট্রেনের পরিত্যক্ত বগির ভেতর থেকে আসমার গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার ব্যাগে থাকা মোবাইল নম্বর দিয়ে আসমার পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। আসমার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার সিনপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক। সে পঞ্চগড়ের খানবাহাদুর মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেছে।
নিহতের চাচা রাজু জানান, “রোববার সকাল থেকে আসমাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বাঁধন নামের একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওইদিন সকাল থেকে বাঁধনকেও পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন গিয়ে আসমার মরদেহ দেখতে পাই। আমাদের ধারণা, বাঁধনই তাকে ফুসলিয়ে ঢাকায় নিয়ে এসেছে।”
রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা সার্কেলের এএসপি ওমর ফারুক বলেন, কমলাপুরে আসমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, না কোনো চক্রের খপ্পরে পড়ে আসমা খুন হয়েছে তা বাঁধনকে গ্রেফতার করা গেলেই উন্মোচিত হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে, পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি মজাহারুল হক প্রধান, ডিসি সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী আসমার গ্রামের বাড়ি গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, নিয়মানুযায়ী জিআরপি থানায় মামলা হয়েছে। তারাই তদন্ত করবে। যেহেতু নিহতের বাড়ি পঞ্চগড়, এ জন্য তদন্তের সময় আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করেছি। কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here