তারেক জিয়ার ফাঁসির দাবি করলেন : ২১ আগষ্টে আহত সাভারের মাহবুবা পারভিন

62
তৌকির আহাম্মেদ:  বিএনপিকে খুনির দল উল্লেখ করে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত সাভারের মাহবুবা পারভিন বলেছেন তারা সন্ত্রাস বিরোধী জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে ২৪টি তাজা প্রান কেরে নিয়েছে। তাদেরকে এই বাংলায় শুধু ফাঁসি দিলে হবেনা জনসভায় ফাঁসির মঞ্চ তৈরী করে ফাঁসি দেয়ার দাবি জানান। যাতে করে সারা বিশ্বে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ না পায়। এসময় তিনি আরও বলেন, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হওয়ায় আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তবে আমি আরও বেশি খুশি হতাম যদি ঘটনার মূল নায়ক ও নির্দেশদাতা তারেক জিয়ার ফাঁসি হতো। সবার ফাঁসি হয়ে গেলেও যদি এই মূল হোতা থেকে যায় তাহলে আবারও সে আরও একটি ২১ আগষ্টের জন্ম দিবে।
আবারও ২৪ জন সুস্থ্য মানুষ এই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে। আমরা একশজন আবারও অসুস্থ্য হবো। কাজেই মূল হোতার আগে ফাঁসি হওয়া উচিত। নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তামানে আমি খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। বাম হাত ও বাম পা সচল না থাকায় রিক্সায় কিংবা বাসে উঠতে পারিনা। রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে সারারাত জেগে কাটাতে হয়। তারপরও যখন আমার মমতাময়ী মা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আপা আমাকে ডেকে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন তখন আমার সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপা সবসময় আমার খোঁজ খবর নেন। তিনি দুইবারে আমাকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন এবং মিরপুরে ১৪শ স্কয়ারফিটের একটি ফ্ল্যাটও দিয়েছেন। কিন্তু সাভারের আওয়ামীলীগ নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে  তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় আমি সাভার পৌর আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পদিকা ছিলাম বর্তমানে ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। সাভারের আওয়ামীলীগ নেতারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। একেকজনের বাড়িতে সারি সারি গাড়ি। আর আমি গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে জীবন্ত লাশ হয়ে গেলাম আমার চলাচলের কোন গাড়ি নাই। আমি রাজনীতি ছাড়া চলতে পারিনা। মিটিং মিছিলে না গেলে ঘরের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার অবস্থা হয়।
তাই দলীয় কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করার জন্য ঢাকায় যাতায়াত করার জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী সমাবেশে চালানো হামলায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী নারী নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৬ জন নিহত হয়। আহত হয় কয়েকশ মানুষ। আহতদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন শরীরে অসংখ্য গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নিয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তারাও। অনেকেই আবার চিরদিনের মতো পঙ্গ হয়ে গেছেন। এদেরই একজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া এক নারী সাভারের মাহবুবা পারভীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here