অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্ত লোহাগড়ার সেই পরিবার

90

ওবায়দুর রহমান: অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্ত হলো নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ী গ্রামের তরিকুল ইসলামের পরিবার। শনিবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে বাঁশের বেড়া অপসারণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শেখ ইমরান, লোহাগড়া থানার এসআই মিলটন কুমার দেবদাসসহ পুলিশের একটি দল। পুলিশের এ ধরণের ভূমিকায় খুশি তরিকুলের পরিবারসহ সচেতনমহল। ভূক্তভোগী তরিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ি ও ক্ষেতের জমি বিক্রির অপরাধে পাশের ঝিকড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ করে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘরের তিন পাশ ঘিরে ফেলেন। ভয়ে এ অন্যায়ের প্রতিবাদও করতে পারিনি। এক পর্যায়ে আমার মা, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ আমি ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি। বিষয়টি সাংবাদিকরা জানার পর ওইদিন বেলা ১১টার দিকে লোহাগড়ার থানার ওসিকে অবগত করলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।

এ খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাতে পুলিশ এসে বাঁশের বেড়া অপসারণ করে। এখন আমার দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ঠিকমত চলাফেরা করতে পারছে। এজন্য নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম-বার) স্যারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তরিকুল জানান, পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর গ্রামবাসীও বিষয়টি মীমাংসার জন্য নড়েচড়ে বসেছেন। এজন্য আজ রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুচিয়াবাড়ী ইটভাটার পাশে গ্রামবাসী দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব মীমাংসার জন্য আলোচনায় বসেছেন। তবে এখনো সুরাহা হয়নি, আলোচনা চলছে।

গ্রাম পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা না হলে লোহাগড়া থানায় সমাধান করার কথা রয়েছে। এদিকে, নিপীড়িত তরিকুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সচেতনমহল। তারা বলেন, পুলিশের এ ধরণের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। শুধু তরিকুল নয়, সবক্ষেত্রেই পুলিশের এমন ভূমিকা প্রত্যাশা করেন ভূক্তভোগীরা। এতে সমাজে মারামারি, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও হতাহতের ঘটনা কমে আসবে। মানুষ ন্যায়-বিচার পাবে। এদিকে হাফিজার রহমান জমির ক্রেতাদের জমিতে আসতে দিবেন না বলেও হুমকি দেন। ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়। আর ঘরের পেছনের পাশে কোনো দরজা না থাকায় সেদিকে বেড়া দেয়নি। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে আমরা উন্মুক্ত ভাবে বাড়িতে চলাফেরা করতে পারছেন। তরিকুল আরো বলেন, এ ঘটনার প্রায় দুই বছর আগেও হাফিজুর রহমান আমাদের জমির বড় একটি তালগাছ বিক্রি করে দেন। থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশের হন্তক্ষেপে ওই তালগাছটি ফিরে পাই।

তরিকুলের মা স্বরূপজান বলেন, শনিবার সকাল থেকে আমি এবং আমার ছেলে, বেটার বউ ও দুই পুতনি (ছেলের মেয়ে) ঘর থেকে বের হতে পারছি না। বৈধ জমি বিক্রির পরও হাফিজুর আমাদের হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, পৈতৃকসূত্রে ওই জমিতে আমার অংশ রয়েছে; তাই আমি বেড়া দিয়েছি। কিন্তু, হঠাৎ করে কেন বেড়া দিলেন? এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here