চেম্বারে আসেন, ভালো করে দেখব’-রোগিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক

545

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছা উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মডেল হাসপাতালের দাঁতের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীদের যশোর শহরের তার ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল ১১ টার দিকে কলেজ প্রভাষক আজিজুর রহমানের ছেলে তাফিম (৭) কে দাঁতের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে তার কাছে যান। আজিজুর রহমান উপজেলার পাশাপোল আমজামতলা মডেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও দৈনিক সময়েরআলোপত্রিকার চৌগাছা প্রতিনিধি। সাংবাদিক পরিচয় না দিয়ে তিনি ছেলের চিকিৎসা নিতে চান। এসময় সরকারি মডেল হাসপাতালটির ডেন্টাল সার্জন ডা. ইয়াসির আরাফাত সমস্যা শুনে মুঠোফোনের টর্চ লাইট দিয়ে তার দাঁত দেখেন। এরপর নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বলেন, ‘আপনার ছেলের দাঁতের যে সমস্যা তার জন্য যশোরে আমার চেম্বারে নিয়ে আসেন।

কয়েকদিন আগে শহরের ব্রাকপাড়া এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে নাজমুল হুসাইন রাজু (৩০) দাঁতের সমস্যা নিয়ে ওই ডাক্তারের যান। নাজমুল হুসাইনকেও ডা. ইয়াসির আরাফাত নিজের যশোর শহরে অবস্থিত ‘ফেমাস ডেন্টালে’ যাওয়ার পরামর্শ দেন। রোগী নাজমুল হুসাইন বলেন, চিকিৎসক তাকে বলেছেন, ‘এটা সরকারি হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা করার মতো যন্ত্রপাতি নাই। বিকেলে আমার প্রাইভেট চেম্বারে আসেন। ভালো করে দেখে দেব। নিজের দাঁতের সমস্যা নিয়ে দৈনিক জনতার সাংবাদিক শ্যামল দত্ত রবিবার দুপুর ১.০৫ মিনিটে ডা. ইয়াসির আরাফাতের হাসপাতালের চেম্বারে গেলেও তাকে পাননি। একই সময়ে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত অন্যান্য ডাক্তারের চেম্বারে খোঁজ নিয়ে অধিকাংশ ডাক্তারের রুম খোলা দেখলেও কোথাও কোন চিকিৎসক দেখতে পাননি। অথচ তখনও চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে সেবা নেয়ার জন্য রোগীদের লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে দেখেছেন।

একইরকম কথা জানিয়েছেন দৈনিক আমাদেরসময় পত্রিকার চৌগাছা প্রতিনিধি আজিজুর রহমান। তিনি জানান কয়েকদিন আগে তিনি একজন রোগিকে দাতের চিকিৎসা দেয়ার জন্য চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. ইয়াসির আরাফাতের চেম্বারে যান। তখন তিনি দেখেন, চিকিৎসক ইয়াসির আরাফাত একটি স্মার্টফোনে ইউটিউবে কিছু একটা দেখছেন। সেসময় প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে রোগিকে দেখার কথা বললে তিনি তার সহকারীকে বলেন রোগিকে দেখে দিতে। প্রায় আধা ঘন্টা রোগিকে নিয়ে ওই চেম্বারে সাংবাদিক আজিজুর রহমান অবস্থান করলেও তিনি নিজের স্মার্টফোন থেকে মাথা উঁচু করে কোন কথা না বলে ইউটিউবে কিছু দেখেই গেছেন ও মোবাইলে গেইম খেলেছেন এবং সহকারীকে দিয়েই চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়েছেন।হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মচারী এবং অন্য দু’জন চিকিৎসক বলেন আপনারা সাংবাদিক। আপনাদের সাথেই তিনি এমন ব্যবহার করেন। তাহলেই বুঝুন অন্য রোগির সাথে তিনি কেমন ব্যবহার করেন? স্থানীয়রা জানান তিনি দীর্ঘদিন ধরে চৌগাছা হাসপাতালে আছেন। হাসপাতালে যাওয়া-আসা আর নিজের চেম্বারের রোগি জোগাড় করা ছাড়া তার কোন কাজ নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে অভিযুক্ত চিকিৎসক ইয়াসির আরাফাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে যন্ত্রপাতি না থাকায় রোগীদের চেম্বারের যাওয়ার কথা বলা হয়।’ তবে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে সরকারি এই হাসপাতালটিতে দন্ত চিকিৎসার সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতির সবই রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার বলেন, হাসপাতালে ডেন্টাল বিভাগে যে যন্ত্রপাতি আছে তাতে নব্বই ভাগ রোগীদের সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা।

এদিকে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের হাসপাতালের চেম্বারে সকাল ৮.০০ থেকে দুপুর ২.৩০ টা পর্যন্ত রোগি দেখার কথা থাকলেও চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ চিকিৎসক অফিসে দেরিতে আসেন এবং দুপুর ১.০০ টার আগেই অফিস ত্যাগ করেন। সব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (ইউএউচএন্ডএফপিও) ডা. মাসুদ রানা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আগামী মিটিংয়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।