চামড়া শিল্পে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে সিন্ডিকেটের কারণে-মির্জ ফখরুল

82

মোঃ জাহিদ হাসান মিলু: বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইসলাম ধর্মের মূল ইবাদত হচ্ছে কোরবানি, এই কোরবানিতে আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে পশু কোরবানি করা হয়। পশু কোরবানি করে যে চামড়া আসে সেটা লেজার ইন্ডাস্ট্রিজে খুব বড় রকমের একটা ভুমিকা পালন করে। পূর্ব পরিকল্পিত কোন নীতি না থাকার কারণে ও সিন্ডিকেটের কারণে আজকে পশু পালনকারিরাসহ ব্যবসায়ীরা প্রচন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, বহু জায়গায় চামড়া মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে। আমাদের সময় চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হতো এবং তারা লেজার ইন্ডাস্ট্রিজ গুলোতে চামড়া পৌঁছে দিতেন। এখন সে রকম কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে এই চামড়া শিল্পে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, কোথায় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলো, কোথায় কার কোন ইন্ডাস্ট্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলো এটা নিয়ে সরকারের আগেও কখন মাথা ব্যাথা ছিলো না এখনো নেই। সে কারণেই তাদের এই সিদ্ধান্তগুলো গণবিরোধী সিদ্ধান্ত হয়। যেটাতে দেশের ক্ষতি হয়।

সরকার যে কথা সবসময় বলার চেষ্টা করে, দেশর উন্নয়ন তারা করছে, দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে গেছে। এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, এটা মানুষের সাথে প্রতারণা করা, জনগণকে ভুল বুঝানোর একটা কৌশল তাদের। সরকারি হিসাব মতেই অনেক অর্থনীতি বিদ প্রমাণ করে দিয়েছেন তাদের যে দাবি সেটা সঠিক নয়। সরকারি খরচ বাড়ছে এই পয়সা আসছে কোথা থেকে, ট্যাক্সের মাধ্যমে। প্রচুর ভ্যাট ও অন্যান্য ট্যাক্সের মধ্যেদিয়ে। যারা ব্যাংকে টাকা জমা করে তাদেরও টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে একটা বিপর্যয় সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে যেন বিনিয়োগ না হয়। দেশে যেন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে টাকা পায় না। ব্যাংক টাকা দিতে পারে না। ব্যাংকগুলো চলছে অনিয়মের মধ্যদিয়ে। আগে একটা ব্যাংকের একজন ডাইরেক্টর থাকতো কিন্তু বর্তমানে একটা ব্যাংকের ডাইরেক্টর ৩-৪ জন। এর ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভূত হয়ে যাচ্ছে। কয়েক জনের মধ্যেই শুধু পুঁজি চলে আসছে। এই বিষয়গুলো তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম ও নৈরাজ্য এটা গোটা অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

সরকারের যে বড় বড় পদে মন্ত্রী, সচিব ইত্যাদি পদের দায়িত্বে আছেন তারাই সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডিফোল্ডার। তারাই সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়েছে ব্যাংক গুলো থেকে এবং তা পরিশোধ করে না। গুটিকয়েক মানুষের সাথে সর্ম্পক তৈরি করে রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ আ.লীগ যারা আছেন তাদের যোগসাজসে এই কাজগুলো করা হচ্ছে। অর্থাৎ এটা হচ্ছে শোষণের একটা রাস্তা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, সেই কারণেই আমরা বারবার বলে আসছি, সরকারের সঙ্গে জনগণের কোন সম্পর্ক নেই, তারা জনগণদ্বারা নির্বাচিত নয় বলেই তারা দীর্ঘসময়ের জন্য দেশের ক্ষতি করে দিচ্ছেন। তারা অর্থনৈতিক, দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং সমাজ ব্যবস্থাকে ক্ষতি করেছেন। সেই কারণেই আমরা বারবার বলছি যে, এই সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত ও নতুন নির্বাচন দেওয়া উচিত এবং সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। দেশের যে ভায়াবহ অবস্থা এর থেকে উত্তোরণের একটাই পথ। সেই পথ হচ্ছে গণতন্ত্রের যে প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া তিনি বাইরে না আসলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না । একমাত্র উনাকে দিয়েই এই সমস্যাগুলো সমাধান করা যেতে পারে। এসময় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবু তাহের দুলাল, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ মামুন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনান, থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।