ঈদ হোক আমার,ঈদ হোক সবার

71

কালজয়ী রিপোর্ট: ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশীর দিন। রাত পোহালেই আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশ। বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে আবারও হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

কবির ভাষায় বলতে হয়- ঈদের আনন্দ আজ ছড়িয়ে পড়–ক সবার মাঝে। হিংসা-বিদ্বেষ আর ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত হোক ঈদের এই সীমাহীন আনন্দ-উৎসবে। ঈদ সবার জীবনেই কম-বেশি আনন্দ এনে দেয়। আর তাই ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদ আনন্দ উদযাপনের বার্তা।

ঈদুল আজহা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব। দিনটি মুসলমানদের জন্য বরকতময় ও। হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আর আমাদের উৎসবের দিন হচ্ছে ঈদ।

ঈদের দিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোসল শেষে পবিত্র হয়ে সামান্য একটু মিষ্টিমুখ করে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে ঈদের জামায়াতে শরিক হন। পরে ঈদ নামাজ শেষ করে পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এরপর সময়-সুযোগ করে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার তো আছেই। তাছাডা ঈদে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি পরস্পরের সঙ্গে মিলনমেলার এক বন্ধন তৈরি হয়। এ সময় ধনী-গরিব ব্যবধান ভুলে গিয়ে সবাই একএে দিনটি উদযাপন করেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেয়া এই আনন্দ-অনুভূতির কোনও শেষ নেই।

ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তা’আলা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নযোগে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেনঃ “তুমি তোমার প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে কোরবানি কর”। ইব্রাহীম স্বপ্নে এবম্বিধ আদেশ পেয়ে ১০টি উট কোরবানি করলেন।

পুনরায় তিনি আবারো একই স্বপ্ন দেখলেন। অতঃপর ইব্রাহীম এবার ১০০টি উট কোরবানি করেন। এরপরেও তিনি একই স্বপ্ন দেখে ভাবলেন, আমার কাছে তো এ মুহূর্তে প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.) ছাড়া আর কোনো প্রিয় বস্তু নেই।

তখন তিনি পুত্রকে কোরবানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতিসহ আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় শয়তান আল্লাহর আদেশ পালন করা থেকে বিরত করার জন্য ইব্রাহীম ও তার পরিবারকে প্রলুব্ধ করেছিল, এবং ইব্রাহীম শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিলেন।

শয়তানকে তার প্রত্যাখ্যানের কথা স্মরণে হজ্জের সময় শয়তানের অবস্থানের চিহ্ন স্বরূপ নির্মিত ৩টি স্তম্ভে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করা হয় করেন। যখন ইব্রাহীম (আঃ) আরাফাত পর্বতের উপর তাঁর পুত্রকে কোরবানি দেয়ার জন্য গলদেশে ছুরি চালানোর চেষ্টা করেন, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে দেখেন যে তাঁর পুত্রের পরিবর্তে একটি প্রাণী কোরবানি হয়েছে এবং তাঁর পুত্রের কোন ক্ষতি হয়নি।

ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহ’র আদেশ পালন করার দ্বারা কঠিন পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হন। এতে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ) কে তার খলিল (বন্ধু) হিসাবে গ্রহণ করেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহার কুরবানী চলে। হিজরি চন্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সবোর্চ্চ ৭০ দিন হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here