কুমিল্লায় ৩৯৩ টি পশুরহাটে নেই জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন,বিপাকে বিক্রেতারা

67

খন্দকার দেলোয়ার হোসেন: আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে কুমিল্লা মহানগরী ছাড়াও ১৭ টি উপজেলার ৩৯৩ টি কোরবানীর পশুর হাটে শুরু হয়েছে গবাদিপশু বিক্রি। প্রতিদিন এসমস্ত হাটগুলোতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। ফলে এই মৌসুম এলই সক্রিয় হয়ে উঠে জাল নোট কারবারী প্রতারক চক্র।

কুমিল্লার ৩৯৩ টি পশুরহাটের মধ্যে বেশ কয়েকটি হাটে শুরু থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত গবাদিপশু কেনাবেঁচা হয়ে থাকে। প্রশাসনের তালিকার পশুরহাটে জাল টাকা সনাক্তকরণের সরকারীভাবে কোন ব্যবস্থা না করায় বিশেষ কওে গরু ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে। ফলে সহজেই প্রতারক চক্রের সদস্যরা জাল টাকা লেনদেন করতে সহজ হচ্ছে। কুমিল্লার বেশ কয়েকটি পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়,ব্যংকের লোকজন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর লোকজন থাকলেও জাল নোট সনাক্তকরনের কোন মেশিন দেখা যায়নি। এতে খুব সহজেই জাল নোট কারবারী ব্যবসায়ী ও গবাদি পশু বিক্রেতাদের সাথে প্রতারণা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসল নোট চেনার কয়েকটি বৈশিষ্ট সম্বলিত তথ্য তুলে ধরেন। কুমিল্লা জেলায় ৪৪ টি স্থায়ী ও ৩৪৯টি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় একটি স্থায়ী এবং ২২ টি অস্থায়ী ,সদর দক্ষিন উপজেলায় ১ টি স্থায়ী এবং ২০ টি অস্থায়ী ,লালমাই উপজেলায় ২ টি স্থায়ী ও ২৩ টি অস্থায়ী , বরুড়া উপজেলায় ৪ টি স্থায়ী ও ৩৯টি অস্থায়ী , ব্রাহ্মণপাড়ায় ১ টি স্থায়ী ও ১৭টি অস্থায়ী ,নাঙ্গলকোট উপজেলায় ৩৪ টি অস্থায়ী ,মনোহরগঞ্জে ৩ টি স্থায়ী ও ২১ টি অস্থায়ী , দেবিদ্বার উপজেলায় ৩ টি স্থায়ী ও ১৯ টি অস্থায়ী , চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ৮ টি স্থায়ী ও ২৬ টি অস্থায়ী , লাকসাম উপজেলায় স্থায়ী ৩ টি ও অস্থায়ী ৭ টি , দাউদকান্দিতে ১ টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী ,তিতাস উপজেলায় ১ টি স্থায়ী ও ১৩ টি অস্থায়ী , হোমনায় ২টি স্থায়ী ও ১৭ টি অস্থায়ী ,বুড়িচং উপজেলায় ৫ টি স্থায়ী ও ২১ টি অস্থায়ী , চান্দিনায় ৩ টি স্থায়ী ১৫ টি অস্থায়ী , মুরাদনগওে ৫ টি স্থায়ী ও ৩৩ টি অস্থায়ী ,মেঘনায় ১ টি স্থায়ী ও ৮ টি অস্থায়ী হাটে এবারের কোরবানী পশু ক্রয় বিক্রয় হবে। যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কের পাশে গরুর হাট না বসাতে নির্শেনা দিলেও কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট সড়কের পাশে একটি গরুর হাট বসেছে। এতে করে যান চলাচলসহ পথচারীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। এছাড়াও লাকসাম,লালমাই , বুড়িচং , দেবিদ্বার , মুরাদনগর,চান্দিনাসহ বিভিন্নস্থানে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক গরুর হাট কুমিল্লার বিভিন্ন সড়কের পাশে বসায় মানুষের দুর্ভোগ সহ যানচলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

ইতঃমধ্যে কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম পশুর হাট ইজারাদারদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় উল্লেখ করেন সড়কের পাশে বা রাস্তার উপর যেন কোন পশুরহাট না বসে। সবার প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন। হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণে মেশিন বসানো , হাটে পুলিশের পাশাপাশি ইজারাদারদের নিজস্ব ভলান্টিয়ার নিয়ে সিসি ক্যামেরায় ব্যবস্থা করা,কাউকে ছিনতাইকারী , টাকা চোর ,গরু চোর সন্দেহ হলে বা আটক হলে তাকে গণপিটুনী না দিয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা। কোন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ব্যাগে সন্দেহজনক কোন বস্তু নিয়ে ঘুরাফেরা করতে দেখলে পুলিশে খবর দেওয়াসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। সুত্র জানায়,ভারত থেকে বিগত ২/৩ মাস পুর্বে গরু এসে সীমান্তবর্তী খামাড়িদের কাছে পৌঁছে যায়।

এসমস্ত অধিকাংশ গরু ক্ষুরাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এসমস্ত রোগাক্রান্ত গরু হাটে আসলে দেশিয় গরুও আক্রান্ত হতে পারে। এব্যাপারে জেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানানো হয়। এসমস্ত কারণে গরু বিক্রেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) অতিঃ পুলিশ সুপার আজম উদ্দিন বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। কোরবানীর পশুরহাটগুলোতে জাল নোট সনাক্তকরণ মেশিন বসানোর জন্য আমাদেও আশ্বস্থ করেছেন।