উল্লাপাড়ায় ভাসমান ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করবেন তিন গ্রামের মানুষ

218

উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলায় চলনবিল বেষ্টিত বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের তিন গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ এবারের ঈদ-উল- আযহার ঈদের নামাজ আদায় করবেন পানির উপরে তৈরী করা ভাসমান দ্বিতল ঈদগাহ মাঠে। এ বিষয় নিয়ে গ্রাম তিনটিতে আগে থেকেই ঈদ উৎসবের আনন্দ বিরাজ করছে তিনগ্রামের মানুষের মনে।ঈদগাহ মাঠের কাজ সম্পূর্ন না হলেও ২০১৮ সালে এই ভাসমান ঈদগাহ মাঠে প্রথম ঈদের নামাজ আদায় করেন ঐ তিন গ্রামের মান্যু। এবছর পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে এই ঈদগাহের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে চারদিকে বিস্তৃত পানির উপরে নান্দনিক এই দ্বিতল বিশিষ্ট ঈদগাহ মাঠটি এবার এ অঞ্চলের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। আগামী ১২ আগষ্ট এখানে নরসিংহপাড়া, শুকলহাট ও শুকলাই গ্রামের প্রায় ৩ হাজারের অধিক মানুষ ঈদ-উল- আযহার নামাজ আদায় করবেন।

নরসিংহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট লেখক, কলামিষ্ট ও সাংবাদিক মোস্তফা জাহাঙ্গীর ২০১২ সালে চলনবিল বেষ্টিত এই স্থানে দ্বিতল বিশিষ্ট ঈদগাহ মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিক ভাবে ব্যাংকে একটি হিসাব খুলে স্থানীয় দানশীল ও স্বহ্রদয়বান লোকজনের অর্থায়নে এখানে আরসিসি কলামের উপরে দ্বিতল বিশিষ্ট ঈদগাহ মাঠ তৈরির করা হয়।বছর দেড়কের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকা সংগৃহিত হয় এই ভাসমান ঈদগাহ মাঠ নির্মাণের জন্য।

মোস্তফা জাহাঙ্গীর জানান, চলনবিলের এই অঞ্চল প্রতিবছর জুন মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে থাকে। প্রথমে ছোট আকারে মাত্র ১৩ শতক জায়গার উপর নির্মিত হয় ভাসমান ঈদগাহ মাঠটি। এমনতবস্থায় তিন গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। কিন্তু ঈদ-উল- আযহার নামাজ আদায় করতো, ঈদগাহ মাঠের সাথে পানির উপর সাড়ি সাড়ি নৌকা বেঁধে তৈরি করা হতো নৌ ঈদগাহ মাঠ। এতে তাদের চরম বিড়াম্বনায় পড়তে হতো। নৌকায় নামাজ পড়ার এ দৃশ্য তখন স্থানীয় বহু লোকজন নৌকা নিয়ে এসে উপভোগ করতেন। পরে গ্রামের লোকজনের সুবিধার্থে এখানে দ্বিতল ঈদগাহ মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৫ সালে ঈদগাহ মাঠের সাথে আরো ৯শতক জায়গা ক্রয় করে মোট ২২ শতক জায়গার উপর ১০০ বর্গফুট স্কয়ার আকারে ১০ফুট উচু করে ৪৪ টি আরসিসি কলামের মাধ্যমে মুল গেট রেখে দ্বিতল বিশিষ্ট ভাসমান ঈদগাহ মাঠটি নির্মিত হয়েছে। দেশের বাইরে থাকা দানশীল হ্রদয়বান মানুষও এ কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যান্য গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে ব্যাতিক্রমি ঈদগাহ মাঠ। এই নন্দিত ঈদগাহ মাঠ নির্মাণে ৫৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এমন দ্বিতল নন্দিত ঈদগাহ মাঠ নির্মাণের উদ্যোগকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন ঈদগাহ মাঠের সভাপতি মোঃ আফজাল হোসেন, সম্পাদক মোঃ আজিজুল হক, সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ সহ তিন গ্রামের লোকজন। ৯ আগষ্ট বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের নবনির্মিত এই নান্দনিক দ্বিতল বিশিষ্ট ঈদগাহ মাঠের ছবি তুলতে গেলে কথা হয় মোঃ আফজাল হোসেন, মোঃ আজিজুল হক, মোঃ আব্দুর রশিদ ও মোঃ বকুল হোসেনের সাথে। তারা জানান, তিনটি গ্রামের মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে আগে অনেক কষ্ট করতেন। মোস্তফা জাহাঙ্গীরের মহৎ উদ্যোগে এ এলাকার মানুষ এখন বর্ষার দিনেও নৌকা নিয়ে এসে নির্বিঘ্নে দ্বিতল বিশিষ্ট পাকা ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তিন গ্রামের লোকজন ছাড়াও পার্শবর্তী গ্রামের লোকজনও উৎসাহিত হয়ে নামাজ পড়তে আসেন। স্থানীয়দের দাবি দেশে এটিই প্রথম এমন দ্বিতল বিশিষ্ট ভাসমান ঈদগাহ মাঠ।