ঈদ কি সবার জন্য আসে?

153
নূরুল আলম আবির : ঈদ কি সবার জন্য আসে.?  একদম না। ঈদ সবার জন্য আসে না। ঈদ তো আমার জন্যও এলো না। আসলাম গংদের সন্ত্রাসী হামলায় চোখের আলো হারাতে বসা, নিরীহ দেহের উপর আঘাতের ছিহ্ন নিয়ে কাঁতরে কাঁদা বালক আমি। আঘাত প্রাপ্ত হয়ে হন্নে হয়ে খুঁজছি একজন ন্যায় বিচারককে, যে আমাকে সত্যিকারের ইনসাফ দিবে। আমার হৃদয় শীতল হবে— সন্ত্রাসী আসলামদের কঠিন দণ্ড দেখতে পারলে। কিন্তু সেই সৌভাগ্য কি হবে.? কষ্টের ঝড়ে বুকের পাঁজর ভেঙে খানখান হচ্ছে সারাক্ষণ। আমার উপর হামলার সঠিক ও কঠিন বিচার আদায় করতে পারবো তো.?  নাকি পারবো না.? এমন কঠিন চিন্তায় ঝড় তোলা হৃদয়ে ঈদের আনন্দ ঠাঁই পাবে কোথায়.? হৃদয় জমিনের এক ইঞ্চি জমিও খালি নেই, যেখানে ঈদ আনন্দরা কোনোমতে ঠাঁই পাবে। এজন্যই বলছি, এ ঈদ অন্তঃত আমার জন্য আসে নি। ফেনীর সত্য বলা মেয়ে নুসরাতের বাবা-মা, ভাই-বোন ও তার কোনো স্বজনের জন্য ঈদ আসে নি। ঈদ আসেনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া কোনো নিরীহ রোগীর জন্য। তাদের শোকে অশ্রুর বানে বুক ভাসানো কোনো স্বজনের হৃদয় আঙিনায় ঈদ আনন্দের ছিহ্ন মাত্র নেই। বরং সেখানে প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ মিছিলে মেতে আছে এক পৃথিবী কষ্ট, এক আকাশ বেদনার রঙ। ঈদ আসেনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনের বাড়ির সীমানায়। ঈদ আসেনি সন্তানহারা বাবার হৃদয়ের পবিত্র জমিনে। ঈদ আসেনি একাত্তরের সময় স্বামীহারা বিধবা কোনো মায়ের কাছে। ঈদ আসেনি নির্যাতিত বোনের চোখের তারায়। ঈদ আসেনি বাবা হারা খোকাখুকির কোমল হৃদয়ে। ঈদ আসেনি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়া মৃত্যু পথযাত্রী অগণিত অজস্র মানুষের আরাধনায়। বহু মানুষ, বহু রক্তাক্ত আহত হৃদয় ঈদের দেখা পাবে না। তাদের দলে আমিও। ঈদের আনন্দরা কষ্টের নীলে পাথর হওয়া আমার অভিমানী হৃদয় ছুঁতে পারবে না। এ ঈদ তো দেখছি— টাকা ওয়ালাদের আর ক্ষমতা ওয়ালাদের। ঢাকঢোল বাজিয়ে দশ লাখ বিশ লাখ টাকা দিয়ে ইয়াবড় একটা গরু কিনবে। পঞ্চাশজন, একশজন মানুষ মরণপণ লড়াই করে সে গরুকে কোরবানি দেবে, জবাই করবে। গরুর সাথে ঈদ সেলফি উঠাবে। এভাবে সবার কাছে বীর সাজতে পারে যারা, প্রতি বছর ঈদ আসে তাদের জন্য। অথচ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যারা এমন করে কোরবানি দিচ্ছে, খবর নিলে দেখা যায়— সে একটি টাকাও যাকাত দেয় না। টাকার আগুনে পুঁড়িয়ে ফেলছে ইনসাফের আরাধনারত অজস্র মানুষের কোমল স্বপ্ন। তবে তাদের কেউ কেউ আবার খোদাভীরু। আল্লাহকে তাঁরা ভয় করে বলেই কোরবানি দেয়। কোরবানি করা পশুর মাংস তিন ভাগ করে। একভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয় স্বজনের জন্য আর এক ভাগ মিসকিনদের জন্য প্রস্তুত রাখে। পাঠিয়ে দেয় তাদের বাড়ি। খেটে খাওয়া, দিনমজুর, রিক্সা চালকসহ সকল নিম্নবিত্ত মানুষের খুব কাছে, তাদের হৃদয় তোলপাড় করে ঈদ আসুক। সাম্যতার মানদণ্ডে ঈদ আসুক সবার বাড়ি। ঈদ আনন্দে মেতে উঠুক সারাবিশ্ব। ত্যাগ, ক্ষমা ও মহানুভবতার পরশে হেরে যাক যতসব পশুত্ব। চলুন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কোরবানি করি। জবাই করি— যত সব পশুত্ব আর অহংবোধকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here