নারায়নগঞ্জে পশু হাটের ইজারাদার হলেন হিন্দু নারী

146

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপনঃ নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ মূল্যে দিয়ে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে আলোচনা এসেছেন শীলা পাল নামের এক হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী। ইজারাদার শীলা পাল উপজেলার ভুলতা এলাকার তপন পালের স্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী মহিলীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি জেলা পরিষদের সদস্যও। তার সঙ্গে রয়েছেন ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হারূন অর রশিদ ভুইয়ার স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঝিনুক।

নারায়ণগঞ্জ তথা বাংলাদেশে এই প্রথম কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী কোরবানীর পশুর হাটের ইজরা নিয়েছেন। তাছাড়া যেখানে ভারতে গো হত্যা মহাপাপ হিসেবে দেখছে ভারতে হিন্দু সম্প্রদায় সেখানে কোরবানীর পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন শীলা পাল। কারণ তার ইজারাকৃত হাট থেকে শত শত গরূ কিনে মুসলিম সম্প্রদায় তা কোরবানী করবে।

উপজেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এ উপজেলায় ১২টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতিটি হাটেই নিয়মানুযায়ী সিডিউল বিক্রি করে টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাদের ইজারা দেয়া হয়।

তবে, ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পার্শের আম বাগান পশুর হাটের সর্ব নি¤œ ইজারা মুল্যে ধরা হয় দুই লাখ টাকা। এ হাটে একাধীক ব্যক্তি দরপত্র জমা দেন। সর্বোচ্চ মুল্যে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় হাটের ইজারা পান শীলা পাল। ১৫% ভ্যাট ও ৫% আয়কর মুল্যে দিয়ে মোট সাড়ে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলে ইজারার অনুমোদন দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম।

হাটের ইজারাদার শীলা পাল বলেন, এখানে হিন্দু-মুসলমানের মাঝে কোন ভেদাভেদ নেই। ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হারূন অর রশিদ ভুইয়ার স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঝিনুকসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় হাট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে এখানে পর্যাপ্ত পরিমান পশু উঠেছে। ইতি মধ্যে হাট জমে উঠেছে। পশু ক্রয় করে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া ও পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ভুলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল ভুইয়া বলেন, আমরা সকলেই এ হাটের দায়িত্ব পালন করছি। শুধু হাট নয়, সকল কার্যক্রমে হিন্দু-মুসলমান সকলে মিলেমিলে চালিয়ে যাচ্ছি।

পশুর হাট পরিদর্শণকালে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধনের এই দেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষ ভালো আছি। আমরা একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগীতা করে তা প্রমাণ করে দিয়েছি। আর এ পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তিনি নিরলস ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।