স্ত্রী আত্মগোপনে:কুমিল্লায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: অপবাদ সইতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যা

55

আবির খান আশিক: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সীমা আক্তারকে কেউ খুন করে লাশ গুম করেনি। কিন্তু তাকে খুন করে লাশ গুম করার অপরাধে তার স্বামী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে খুন ও খুন করে লাশ গুম করার অপরাধে মিথ্যা মামলা করা হয়। এই মিথ্যা মামলার অপবাদ থেকে বাচাঁর জন্য আত্মহত্যা করে সাইফুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামে।

এদিকে স্ত্রী সীমা আক্তারকে খুন করে লাশ গুম করেনি স্বামী সাইফুল। তাকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেয় সীমা আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের মোরশেদ মিয়ার মেয়ে সীমা আক্তার সাথে চার বছর আগে একই উপজেলার সদরের আটকিল্লাপাড়ার সহিদুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

এরই ফলশ্রুতিতে গত ১৮ মে থেকে সীমা আক্তারকে খুজে পাচ্ছিল না। এই ঘটনায ২৩ মে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে সীমা আক্তারের মা বাদী হয়ে স্বামী সাইফুল ইসলামের নামে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে স্ত্রীকে খুন করে লাশ গুম করার অপরাধে মামলা করেন। এই মামলার আসামী সাইফুল ইসলাম পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

ঘটনাটি মিমাংসার জন্য সাইফুল ও সীমা আক্তারের পরিবারের লোকজন একাধিকবার বৈঠকও করেছিলেন। এই বৈঠকে স্বামী সাইফুল ইসলামকে দুই লাখ টাকা জরিমান করা হয়েছিল। কিন্তু জরিমানার দুই লাখ টাকা সাইফুল ইসলাম দিতে পারেনি। একদিকে স্ত্রী খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা, অন্যাদিকে হত্যা ও লাশ গুমের মামলা। এই দুই দিকের চাপ সহ্য করতে না পেরে গত ২১ জুলাই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সাইফুল ইসলাম। এই ঘটনায় সাইফুলের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন।

পরে গত মঙ্গলবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থেকে স্ত্রী সীমা আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করে। এই ঘটনায় স্ত্রী সীমা আক্তার কুমিল্লা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।

সীমা আক্তার জবানবন্দিতে বলেন, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম তাকে নির্যাতন করতেন। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি কাউকে কিছু না বলে গাজীপুরে গার্মেন্টসসে চাকরি করেছেন। পরে বাড়িতে আসলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসেন।

নিহত সাইফুলের ভাই রাজিব মিয়া ও শ্যমল মিয়া বলেন, তাদের বড় ভাই সাইফুলেরর সাথে মনোমালিন্য ছিল। পরে শশুর বাড়ির লোকজন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই জ¦ালা না সইতে পেরে আত্মহত্যা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here