কুমিল্লার তিতাসের সড়কগুলো যেন মড়ণফাঁদ

41

হালিম সৈকত: তিতাস উপজেলার ব্যস্ততম প্রধান সড়ক হলো গৌরীপুর টু হোমনা রাস্তাটি। এর মধ্যে যে কয়টি রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাতাকান্দি বাজার সড়কটি। অথচ সড়কজুড়ে ছোট বড় গর্ত। এসব গর্তে জমে আছে পানি। কাঁদাপানিতে একাকার সড়কে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। কিছু স্থানে পিচ ঢালাইয়ের অস্তিত্বই নেই। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। চলাফেরা করা দুসাধ্য হয়ে পড়ে। আর রৌদ্রে এসব স্থানে সমানে উড়ে ধূলাবালি। এই বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। শুধু বাতাকান্দি বাজার নয় সাতানি ইউনিয়নের বাতাকান্দি থেকে বাহেরচর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটা সড়কের এমনই বেহাল অবস্থা। সাতানী ইউনিয়ন ঘুরে ১২ কিলোমিটার রাস্তার এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

অপরদিকে গাজীপুর থেকে জগতপুর ইউনিয়ন অফিস পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা চোখে পড়ার মত। সুস্থ্য মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়বে এই রাস্তায় চলাচল করলে। খানাখন্দে ভরা পুরো সড়কটি। মেরামতের নেই কোন তোড়জোড়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাতাকান্দি বাজারের হোমনা-গৌরীপুর সড়ক, গাজীপুর- জগতপুর সড়ক এবং বাতাকান্দি-বাহেরচর সড়কের বেহাল দশা। এতে পথচারীদের প্রতিনিয়তই চরমদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়িতই বৃষ্টির কারণে পানি জমে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নোংরা পানি ও কার্দমাক্ত সড়ক দিয়ে চলাচলে জনসাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। চলাচলকারী ও গাড়ি চালকদের অভিযোগ ভাঙ্গা সড়কে গাড়ি আটকে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে। আর বৃষ্টি না থাকলে সড়কে ধূলাবালিতে হাঁটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। পথচারীরা চলেন নাক মুখে কাপড় গুঁজে। ফলে আশেপাশের এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের যানবাহনে করে যাতায়ত করতে পারছে না। অগ্রাধকিার প্রকল্পের আওতায় সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করা এখন সময়ের দাবী।

দীর্ঘদিন ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা থাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সড়কগুলো সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সাতানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সামসুল হক সরকার। তিনি বলেন আমি অনেক চেষ্টা করেছি বাহেরচর টু বাতাকান্দি রাস্তাটি সংস্কারের জন্য। ইতোমধ্যে দুইবার ইস্টিমেইট হয়েছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। ঢাকা এবং কুমিল্লা থেকে ইঞ্জিনিয়ারগণ সব কিছু করে গেছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করেছি রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য। তিতাস-হোমনার গণমানুষের নেত্রী জাতীয় সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নারী নেত্রী সিআইপি সেলিমা আহমাদ মেরী সড়কটি পরিদর্শন করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

অন্যদিকে জগতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, এই রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের আন্ডারে নয়। তাই কাজ করতে পারছি না। তবে আমি উন্নয়ন মিটিংয়ে অনেকবার বলেছি রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য। কেন কাজ শুরু হচ্ছে না বলতে পারছি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here