ওপারে রাজপ্রসাদ এপারে কুড়েঘর এমনি অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোষ্ট।

30

মো:সাইফুল ইসলাম আখাউড়া#

যাত্রীদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট। প্রতিদিন এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় ছয়-সাত শতাধিক যাত্রী ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। পূজা-পার্বণ এলে যাত্রীদের এ সংখ্যা দুই-তিন হাজারে গিয়ে ঠেকে।

 তবে নামের পাশে আন্তর্জাতিক শব্দটি জুড়ে দেয়া হলেও সেবার দিক থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা ইন্টিগ্রেডেট চেকপোস্ট (আইসিপি) থেকে অনেক গুণ পিছিয়ে আখাউড়া চেকপোস্ট।

বিশাল জায়গা নিয়ে নির্মিত আগরতলা আইসিপি ভবনটি দেখতে অনেকটাই রাজপ্রাসাদের মতো। ঝকঝকে ও পরিপাটি আগরতলা আইসিপি ভবনের তুলনায় আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের পুরনো ছোট্ট ইমিগ্রেশন আর স্থল শুল্ক স্টেশন ভবন দেখতে অনেকটা কুঁড়েঘরের মতো।

এ নিয়ে যাত্রীদেরও অভিযোগের শেষ নেই।আগরতলা আইসিপিতে এক ছাদের নিচেই দুই দেশের যাত্রীদের মিলছে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের যাবতীয় সেবা। যাত্রীদের মালামাল পরীক্ষার জন্য সেখানে রয়েছে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন। এছাড়াও যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত আসন, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আইসিপি ভবন পর্যন্ত যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিনামূল্যে পরিবহনেরও ব্যবস্থা করেছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। আগরতলা আইসিপিতে এমন আধুনিক সব সেবা মিললেও আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের চিত্র একেবারেই বিপরীত।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা। স্ক্যানিং মেশিনের বদলে যাত্রীদের ব্যাগ খুলে তল্লাশি চালান শুল্ক স্টেশনের কর্মচারীরা। নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থাও। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের।পাসপোর্টে আগমন অথবা প্রস্থানের সিল মোহরের জন্য ইমিগ্রেশন ভবনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক যাত্রীকে। অনেক সময় ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরেও অবস্থান নেন যাত্রীরা।

আখাউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উ (এসআই) পিয়ার হোসেন  বলেন, ১৯৫২ সালে ইমিগ্রেশন ভবনটি নির্মিত হয়েছে। পুরনো এ ছোট্ট ভবনে কাজ করতে গিয়ে আমাদের সমস্যার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। বসার জায়গার অভাবে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এসব সমস্যার কথা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার বলেছি।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শান্তি বরণ চাকমা বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগরতলা আইসিপির তুলনায় আমরা যাত্রীদের কাঙিক্ষত সেবা দিতে পারছি না। তবে যদি আমাদেরও আইসিপি ভবন হয়ে যায় তাহলে যাত্রীরা তাদের কাঙ্খিত সেবা পাবেন। আশা করছি অচিরেই আমাদের আইসিপি ভবন নির্মিত হবে।

এসব সমস্যা তরিৎ সমাধান করে যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নে বাংলাদেশে আধুনিক মানের স্থল শুল্ক ষ্টেশন ও ইমিগ্রেশন ভবন নির্মান করার জন্য যথাযত কতৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করছেন ভোক্তভোগী যাত্রীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here