ঢাবিতে মহামারী আকার ধারণ করছে ডেঙ্গু:আক্রান্ত শতাধিক 

81
সিনজাত রহমান সানি: রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব থেকে বাদ যায়নি দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও (ঢাবি)। প্রতিদিনই ৬-৭ জন শিক্ষার্থী মশার কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গুতে।

বিভিন্ন হলে খবর নিয়ে জানা গেছে,ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। হলের বিরূপ পরিবেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে, প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী যারা গণরুমে থাকেন তারাই বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ঢাবির বিভিন্ন হলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা- ফজলুল হক মুসলিম হলে ১০ জন,সূর্যসেন হলে ১১ জন,জসীমউদ্দীন হলে ৩ জন,ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ৩ জন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১০ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর হলে ৮ জন,সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের বারান্দায় ৫জন(আরো অনেকেই আক্রান্ত),অমর একুশে হলে ১জন, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৬ জন,জগন্নাথ হলে ৩ জন,হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ১জন,স্যার এফ রহমান হলে ১জন,বিজয় একাত্তর হলে ৭ জন, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ১জন,শামসুন নাহার হলে ২ জন,সুফিয়া কামাল হলে ৯ জন।এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুত্তাকী বলেন, ‘প্রতিদিনই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে আসছেন।আমাদের মেডিকেলের ওয়ার্ডে আসলেই দেখবেন কি হারে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।’

এই বছর কতজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে জানতে চাইলে ঢাবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার  জানান, ‘আমাদের কাছে এর নির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। তবে প্রতিদিন ৬-৭ জন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন।’

তিনি অারো বলেন,অামাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এখানে অামরা ডেঙ্গুর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভালো হসপিটালে ভর্তি হতে পরামর্শ দিচ্ছি।

ডেঙ্গু জ্বর মহামরী পর্যায়ে ছড়িয়ে যাওয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনার দাবি জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ডেঙ্গু রোগে অাক্রান্ত হয়ে ঢাবি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে অাসা শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার  অভাবের কথা বলছেন।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু পরীক্ষায় জন্য শুধু  CBC(প্লাটিলেট কাউন্টের জন্য) করা যায় তবু সকাল ১০ টার পূর্বে।২ জন ওয়ার্ড বয়, ১ জন পিয়ন দিয়ে কাজ চলছে ঢাবি মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম, নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার।

এদিকে হলে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়লেও মশক নিধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শরিফুল ইসলাম নামে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গণরুমে আমাদের কয়েকজন বন্ধু ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়ে মেডিকেলে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।’

সাজ্জাদ হোসেন নামে সূর্যসেন হলের এক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে মাঝে মাঝে ধোঁয়া দেওয়া হলেও মশা মরে না। কিন্তু সপ্তাহ খানিক ধরে সেটাও দেয়া হচ্ছে না। তিনি মশা মারার কার্যকরী ওষুধ দেয়ার জন্য জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

তবে ডেঙ্গুর ব্যাপারে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা। প্রাধ্যক্ষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হল প্রশাসন ডেঙ্গুর ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। তবে তারা শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মফিজুর রহমান বলেন,’ আমরা ডেঙ্গু নিয়ে প্রথম থেকে সতর্ক। ফিরোজ (গত শুক্রবার ডেঙ্গুতে অাক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন) অসুস্থ হওয়ার পর থেকে হাউজ টিউটর খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছেন।’হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক নিজে উপস্থিত থেকে মশক নিধনের জন্য ওষুধ দিয়েছেন। ফিরোজের মৃত্যু দুঃখজনক।

চিকিৎসকরা জানান, এবার ডেঙ্গু জ্বরে জ্বরের মাত্রা কম, দৃশ্যমান র্যাশ বা দাগ না হওয়া এমনকি শরীরে পর্যাপ্ত ব্যাথা না হওয়ায় অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কিনা। চিকিৎসাবিদরা আরো জানান, এবার সংক্রমণের হার যেমনবেশি, মৃতের হারও বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।