সাংবাদিক আবিরের উপর সন্ত্রাসী হামলা

170
কালজয়ী রিপোর্টঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কবি, লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী নূরুল আলম আবিরের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি গতকাল সোমবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে তার নিজ গ্রাম আঠার বাঁকে এ হামলার শিকার হন। নূরুল আলম আবির জাতীয় পত্রিকা দৈনিক কালজয়ী’র বিশেষ প্রতিনিধি এবং চৌদ্দগ্রামের সাপ্তাহিক আমাদের প্রত্যাশার স্টাফ রিপোর্টার। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন বিএমবিএফ এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মিডিয়া ও জনসংযোগ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এ সংগঠনের একটি কমিটিও তিনি গঠন করেন। উক্ত কমিটির সভাপতি মোঃ এমরান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরে আলম। সাংবাদিক নূরুল আলম আবির আহত হয়ে হাসপাতালে এলে খবর পেয়ে ছুটে আসেন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার জননন্দিত পৌর মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস মিয়াজী, শুভপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবু সাইদ, বিএমবিএফ এর উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ এমরান হোসেন, যুব সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, উপজেলা যুবলীগ নেতা বাদল ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী মোঃ আসলাম মজুমদার তার ভাই মোসলেম মজুমদারের বাড়ি-ঘরে কিছুদিন আগে আকস্মিক হামলা চালায়। এ হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল তদন্তে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক নূরুল আলম আবিরের কাছে নির্যাতিত পরিবার বিষয়টি জানালে তিনি এ ঘটনার উপর দৈনিক কালজয়ীতে একটি লাইভ নিউজ করেন। সে কারণেই গতকাল সন্ত্রাসী আসলাম মজুমদার ও তার ছেলেরাসহ মিলে সাংবাদিক আবিরের উপর হামলা করে। হামলার পরও গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সে লোকজন নিয়ে আবিরকে মারার জন্য খোঁজতে থাকে। সৌভাগ্যক্রমে আবির সে সময় রক্তাক্ত আহত হয়ে বাড়িতে পড়ে ছিল। তারপর আবার আবিরকে স্থানীয় লোকজন যখন চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে তখনও আসলাম ও তার সহযোগীরা তার বাড়িতে হামলা করার জন্য উদ্ধত হয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক আবির বলেন, “আমি কিছুদিন আগে সন্ত্রাসী আসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে দৈনিক কালজয়ীতে একটি লাইভ নিউজ করি। কারণ আসলাম মজুমদার তার বড় ভাই মোসলেম মজুমদারের বাড়ি-ঘরে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা করে বাড়ি ঘরের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনা তদন্তে আসে। তখনই আমি মোসলেম মজুমদারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নিউজটি করি। এ ছাড়া আসলাম মজুমদারের সাথে আমার কোনো বিরোধ নেই। সে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন দৌড়ে না এলে তার হাতে থাকা রড দিয়ে পিটিয়ে সে আমাকে মেরে ফেলতো। তার হামলায় আমার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি আশংকা করছি, আমার চোখটি যেন মহান আল্লাহ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। “
সাংবাদিক নূরুল আলম আবিরের উপর হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সবার একই দাবী সন্ত্রাসী আসলাম গংদের বিচার চাই। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন বিএমবিএফ এর কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এসএম সাইফুর রেজা, সহকারী মহাসচিব আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী মহাসচিব আব্দুল কাদের বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, আসামীদের যেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যাহার এসডিআর নং ১৬০৬। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
সাংবাদিক নূরুল আলম আবির প্রথমে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এখন তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় চক্ষু বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here