দেবীদ্বারে প্রিয়া সাহা’র মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানব বন্ধন 

36

এ,আর আহমেদ হোসাইন: “হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ’ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের নিকট সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্ঠান সম্প্রদায়ের তিন কোটি সত্তর লক্ষ লোক গুম করার বিষয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন,- তা মিথ্যে, উদ্দেশ্য প্রনোদীত ও ভিত্তিহীন। তার এ বক্তব্যে স্বাধীন সার্বভৌম অ-সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা তার এ হীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার এ বক্তব্য গ্রীণ কার্ড পাওয়ার আশায় ব্যক্তিস্বার্থে নাকি আন্তর্জাতিক কোন গভীর ষড়যন্ত্র তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে হবে।”

দেবীদ্বারে ‘ধর্ম যার যার- উৎসব সবার’ এ- শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘জাতীয় সাংবাদিক কল্যান ফাউন্ডেশন’ ও ‘ঢাকা মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’ দেবীদ্বার শাখা কর্তৃক আয়োজিত,- আমেরিকার ডোনাল ট্রাম্পের নিকট প্রিয়া সাহা’র মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ওই বক্তব্য তুলে ধরেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় ‘কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহা সড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট ‘মুক্তিযুদ্ধ চত্তর’র সামনে ওই মানবন্ধন চলাকালে ‘ঢাকা মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ডাঃ জিএম মাকসুদুর রহমান’র সভাপতিত্বে এবং ‘জাতীয় সাংবাদিক কল্যান ফাউন্ডেশন’ কুমিল্লা জেলা আহবায়ক সাংবাদিক এ,আর,আহমেদ’র সঞ্চালনায় একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন,- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি কমরেড এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ‘ঢাকা মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র জেলা সদস্য মোঃ শরীফ, মোঃ আশিকুর রহমান, দেবীদ্বার শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ বিল্লাল হোসেন, সহ-সভাপতি রুহুল আমিন হাজারী, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সফিউল্লাহ, অর্থ সম্পাদক মোঃ সোহেল মোল্লা, সমাজ কল্যান সম্পাদক মোঃ নওশাদ হোসেন, সাংবাদিক মোঃ বিল্লাল হোসেন প্রমূখ।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এ- শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃটিশ ও পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১’র মুক্তি যুদ্ধে স্বাধীন র্স্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছি। তবে মানবতা বিরোধী অশুভ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সেই ৫০’র দশক থেকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা- নির্যাতন, বাড়ি- ঘরে অগ্নিসংযোগ,  লুটপাট, ধর্ষণ, বাড়ি দখল, ভূমি দখল অব্যাহত রেখেছে। যা আজও চলমান রয়েছে। এসবে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ৪৭’র দেশ বিভাগের পর ৩৩% সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যা আজ ৭% নেমে এসেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দু’দশকে তা ‘০ (শুণ্যে)’র কোটায় নেমে আসবে। এসবের কারন খুঁজে বের করতে হবে। নচেত মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি টিকে থাকবেনা। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজরা আজকের এঘটনাকে কেন্দ্রকরে যাতে দেশের কোথাও কোন বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে তার প্রতি সতর্কতার সাথে সবার দৃষ্টি রাখতে হবে। সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির বাংলাদেশে কখনো সাম্প্রদায়িক শক্তির আগ্রাসনের সুযোগ দেয়া হবে না

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here