কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অভিযুক্ত ৫ শিক্ষকের মধ্যে ২জনকে শোকজ

386

বিপ্লব আহমেদ: ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজে অনার্স ও বিএম শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় ৫ শিক্ষকের মধ্যে ২জনকে গত ১৬ জুলাই গভর্নিং বডির নির্দেশে শোকজ করা হয়েছে। একই ঘটনায় ৫জন শিক্ষক অভিযুক্ত হলেও রহস্যজনক কারণে দুইজনকে শোকজ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার (২১.০৭.১৯) সরেজমিনে কলেজ সুত্রে জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের ৪র্থ বর্ষ অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা গত ৭ এপিল শুরু হয়। কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে সমাজকর্ম, বাংলা, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যাবস্থাপনা বিভাগের ১৬৪ জন শ্ক্ষিার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলা বিভাগের প্রধান ড. হোসনেয়ারা ৪৪জন পরীক্ষার্থীর কাজ থেকে ৪৪ হাজার, ব্যবস্থাপনা বিভাগের রবিন কুমার লস্কর ৪৩জন থেকে ৪৩ হাজার, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তন্দ্রা রানী দাস ৩৩ জন থেকে ৩৩ হাজার এবং সমাজকর্ম বিভাগের মো. ফরহাদুল ইসলাম সিকদার ৪৪ জন শিক্ষার্থীর থেকে ৪৮ হাজার ৪শ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেন। এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক মো. আলমগীর হোসেন বিএম শাখার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ব্যবহারিক পরাীক্ষার ফিস অতিরিক্ত ১৭৮ জন পরীক্ষার্থীর ১শ টাকা করে ১৭ হাজার ৮শ টাকা আদায় করেন। একই ঘটনায় ৫জন শিক্ষক অভিযুক্ত হলেও রহস্য জনক কারণে এদের মধ্যে সমাজকর্ম বিভাগের মো. ফরহাদুল ইসলাম সিকদার ও সহকারী অধ্যাপক (বিএম) মো. আলমগীর হোসেনকে গত ১৬ জুলাই গভার্নিং বডির সভাপতির নির্দেশে কারণ দর্শানোর নোটিশে ৭দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে জবাব চাওয়া হয়েছে।

ওই সময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা খন্দকার আবু মোরসালিন এ ব্যাপারে বলেন, গভার্নিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে ৫জনের মধ্যে ২জনকে ডাকযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৭দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে বাকি ৩জন শিক্ষককে কেন শোকজ করা হলোনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা গভর্নিং বডির মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছিল সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব কাজী সিরাজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ব্যাপারে বলেন, অভিযুক্ত ৫জন শিক্ষক হলেও ২জনকে তাৎক্ষনিক শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুলাই গভার্নিং বডির মিটিংয়ে বাকি ৩জনসহ সকল বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, গভার্নিং বডির মিটিংয়ে এ ধরণের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি এবং যা হয়েছে ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মোরসালিনের পরামর্শে হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here