মনিজা আক্তার মিতুর আত্মহত্যার প্রতিবাদে নীলক্ষেতে মানববন্ধন

85

ঢাবি প্রতিনিধিঃ তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মনিজা আক্তার মিতুর আত্মহত্যার প্রতিবাদে নীলক্ষেত অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। যার ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।এছাড়াও অবরোধের এক পর্যায়ে ফুটপাত দিয়ে মটর সাইকেল চালানোয় এক নারী পথযাত্রী আহত হন।

গত মঙ্গলবার রাতে বেগম বদরুন্নেসা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনিজা আক্তার মিতু আত্নহত্যা করেন।

এ প্রসঙ্গে মিরপুর বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, “মিতুর খাতা পুনরায় বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষকদের দ্বারা মূল্যায়ন করা, তার সহপাঠিদের খাতা দেখানো সহ মিতুর পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা প্রশাসনকে দিতে হবে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে এটি কার্যকর করতে হবে।”

এসময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ইসমাইল বলেন, “আমাদের এক বছরের শিক্ষাকার্যক্রম এক বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে, ৯০ দিনের মধ্যে রেজাল্ট প্রদান, ঢাবি উপাচার্য যে আশ্বাস দিয়েছেন তা লিখিত আকারে একটি কপি সাত কলেজ ও ইউজিসিতে প্রদান ও কার্যকরী একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।”  এই দাবিগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে না মানা হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধ্বংস করে দিয়েছে। এক বছর পরে রেজাল্ট প্রকাশ করে তাও আবার গণহারে ফেল করায়।

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী সোহেল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি মনে করে যে তাদের দ্বারা অধিভুক্ত কলেজগুলোকে চালানো সম্ভব নয়, তবে বাতিল করলে আমাদের আপত্তি নেই। তিনি গণহারে অকৃতকার্যের বিষয়ে ঢাবি শিক্ষকদের দায়ী করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা নগর শাখার সভাপতি রাফিকুজ্জামান ফরিদ এবং সাধারণ সম্পাদক অরূপ দাস শ্যাম আজ এক  বিবৃতিতে মিতুর মৃত্যুর পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের চলমান সংকটকে দায়ী করে বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে সাত কলেজকে যেভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে এবং তারপরে যেভাবে দায়সারাভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, তারই পরিণামে মনিজা আক্তার মিতুর মতো শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “পূর্বে বহুবার দাবি তোলা হলেও, রেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ সহ সাত কলেজের সংকট নিরসনের তেমন কোনো উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান হয়নি। সারা বছর নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শুধু  পরীক্ষা নির্ভর করে তোলা হয়েছে কলেজগুলোর শিক্ষাকে। উপরন্তু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও তার ফলাফল প্রকাশে রয়েছে প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দায়সারা মনোভাব। এরকম অবস্থায় অপ্রত্যাশিত ফলাফলে মনিজা আক্তার মিতুর আত্মহত্যা আমাদেরকে কলেজের চলমান সংকট সম্পর্কে আরও ভাবিত করছে। তার মৃত্যুর পেছনে এই সংকটগুলোই দায়ী। ফলে এটা নিছক কোনো আত্মহত্যা নয়।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা মনিজা আক্তার মিতুর মতো আরও প্রাণ যেন না ঝরে, সেই জন্যে অবিলম্বে সাত কলেজের চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসন যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো রকম অবহেলা করে, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো।”