মাদারীপুরে র‌্যাব-৮ কর্তৃক চাঞ্চল্যকর দিপ্তী হত্যার আসামী গ্রেফতার

138

আরিফুর রহমান: মাদারীপুরে মাদ্রাসার ছাত্রী সানজিদা আক্তার দিপ্তী (১৫) কে ধর্ষন করে চাঞ্চল্যকর হত্যার মূল আসামীকে সনাক্ত করেছে র‌্যাব-৮ মাদারীপুর।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাদারীপুর র‌্যাব-৮এর কমান্ডিং অফিসার আতিকা ইসলাম প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকের এ কথা জানান। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো.সাজ্জাদ হোসেন (৪০) খানের স্বীকারোক্তি উল্লেখ করে দিপ্তির হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন আতিকা ইসলাম।

মাদ্রাসার ছাত্রী দিপ্তী গত ৯ জুলাই বুধবার মাদারীপুর শহরে তাহার বোনের বাসায় বেড়াতে আসে ১১ জুলাই দুপুরের পর সে তার প্রবাসী চাচার বাসায় বেড়াতে যাবে বলে বের হয়।

বোন জানে দিপ্তী চাচার বাসায়,দিপ্তীর বাবা-মা জানে সে তার বোনের বাসায়। এই ধাধায় তার পরিবারের কেউ সন্ধেহই করেনি। গত ১৩ জুলাই অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের পরে মাদ্রাসার ছাত্রী দিপ্তীর লাশ হিসাবে পরিচয় পাওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে মাদারীপুর র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা। লাশ উদ্ধার হওয়া পরিত্যাক্ত পুকুরে ১৮ জুলাই আবার তল্লাসী করে র‌্যাব-৮। সেখান থেকে একটি ব্যাগে দিপ্তীর কাপড়-চোপড়,বোরখা,জুতা পাওয়া যায় যা দিপ্তির ব্যাবহৃত ও পড়নে ছিল। এই সূত্র ধরে র‌্যাব-৮ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। তাদের তদন্তে ১৯৯২ সালে শিশু হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাভোগ করে ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ইজিবাইক চালক মো. সাজ্জাদ হোসেন(৪০) খানের জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ হয়। তাই সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-৮ক্যাম্পে নিয়ে আসে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সাজ্জাদ র‌্যাবের কাছে দিপ্তীকে ধর্ষণ ও হত্যা করার কথা স্বীকার করে।

সাজ্জাদ হোসেনের স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে র‌্যাব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার আতিকা ইসলাম জানান, ১১ জুলাই বোনের বাসা থেকে শহরের চরমুগরীয়ায় চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য ইটের পোল এলাকা থেকে একটি ইজিবাইকে ওঠে। ইজিবাইকে আর কোন যাত্রীনা থাকায় এবং প্রচুরবৃষ্টি থাকায় ইজিবাইক চালক সাজ্জাদ দিপ্তীকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে দিপ্তীকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। পরে লাশটি গুম করার জন্য বিদ্যুতের তার দিয়ে কয়েকটি ইটসহ দিপ্তীর পোষাক বিহীন লাশটি বেধে পরিত্যাক্ত পুকুরে ফেলে দেয়। দুইদিন পর লাশটি ভেসে উঠলে দিপ্তী হত্যার ঘটনাটি সামনে চলে আসে।

উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই মাদারীপুরের পূর্ব খাগদি এলাকার একটি পরিত্যাক্ত পুকুর থেকে নগ্ন ও বিকৃত অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরের দিন দিপ্তীর বাবা হাসপাতালে এসে লাশটি তার মেয়ে দিপ্তীর বলে নিশ্চিত করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা করে।