চিকিৎসক সংকটে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

163

বিভাষ দাস: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক সংকটে নিজেই যেন রুগী। প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষের জন্য বর্তমানে চিকিৎসক মাত্র তিন জন। প্রথম শ্রেনীর মঞ্জুরকৃত ১৫ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ছয় জন। শূণ্য পদ নয়টি। ছয় জনের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং দুই জনের কর্মস্থল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। অর্থাৎ, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের রোগী চিকিৎসার কাজ চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ তিন জন চিকিৎসক দিয়ে। উক্ত তিন জন চিকিৎসকের কেউ কোন কারনে অনুপস্থিত থাকলে স্বাস্থ্যসেবা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে চিতলমারী উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক হতে গত জুন মাসে প্রায় ১৬ হাজার রোগী সেবা পায়। যা এই উপজেলার মোট জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগী সেবা প্রাপ্তির পরিমাণ কমছে। রোগীরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য পাশ্ববর্তী টুঙ্গিপাড়া, মোল্লাহাট, ফকিরহাট, বাগেরহাট হাসপাতালে এবং ক্লিনিকগুলোয় যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে তাদের খরচ ও ভোগান্তি বাড়ছে। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী, চিতলমারী উপজেলায় ৩০ হাজার ২৬৪ পরিবারে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার ৮১০ মানুষ রয়েছে।

হাসপাতালের জুন মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মাসে পাঁচ হাজার ৩৮৪ জন রোগী সেবা পেয়েছে। যার মধ্যে বহির্বিভাগ হতে চার হাজার ১৭১ জন, আন্তঃবিভাগ হতে ৫৪৪ জন, জরুরী বিভাগ হতে ৬৬৯ জন। এছাড়া,মাইনর সার্জারী ৩৩ জন, মেজর সার্জারী চারজন, নরমাল ডেলিভারী ২২ জন এবং চার জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। চিতলমারী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। যেখান থেকে গত জুন মাসে ১০ হাজার ৯২৬ জন রোগী সেবা পেয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এই হাসপাতালে মঞ্জুরকৃত ১৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১০৭ জন আছেন। ৫০ শয্যার জন্য আরো ২৮টি পদের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৭ সালে এ হাসপাতাল ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ লোকবল পেলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়া আরো সহজতর হতো।’
তিনি আরো জানান, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় অপারেশনের উপকরণ- আইপিএস, এসি, ডায়াথার্মি মেসিন, পালস অক্সিমিটার পাওয়া গেছে। ফলে তিনশ’ অপারেশন হয় গত দেড় বছরে। যার মধ্যে ১৩০ জনের সিএস, ১৬৩ জনের এ্যাপেন্ডিক্সসহ অন্যান্য অপারেশন সাত। উপজেলা পরিষদ জরুরী পানি সরবরাহের পাশাপাশি হাসপাতালের মসজিদে যাওয়ার রাস্তা নির্মান, পুরাতন এ্যাম্বুলেন্স মেরামত করে দেয়া সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করছে।

তিন বছর ধরে বন্ধ আছে এক্সরে মেশিনটি। সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলা করা হচ্ছে। ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বরাদ্দ হয়নি নতুন জনবল। অথচ উন্নয়ন মেলা-২০১৮তে এই হাসপাতাল উপজেলায় প্রথম হয়। ভুক্তভোগীরা হাসপাতালের সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here