ঐতিহাসিক ব্যক্তি জগন্নাথপুরের সুধীর চন্দ্র গোপ এখনো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি

52

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার যাত্রাপাশা গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ। যে ব্যক্তি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সুনামগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত জগন্নাথপুর থানায় আ.লীগের কমিটি গঠন করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি সততা ও নিষ্টার সাথে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। যাহা জেলা ও কেন্দ্রীয় আ.লীগের কার্যালয়ে নথিভূক্ত আছে। তৎকালীন সময়ে একজন রাজনীতিবিদ, ডাক্তার ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপের ব্যাপক পরিচিতি ও কদর ছিল।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুব্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীনের লক্ষে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিকামী জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক এমপি আবদুর রইছ ও ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপের নেতৃত্বে জগন্নাথপুর থানায় স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির মাধ্যমে অত্যান্ত দৃঢ়তার সহিত নিজের মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যাহা মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ খসরু কর্তৃক লিখিত রক্তাক্ত ৭১ সুনামগঞ্জ নামক ঐতিহাসিক বইয়ে উল্লেখ আছে। দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ভারতের ৫নং বালাট ক্যাম্পে যোগদান করেন ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ। তখন বালাট ক্যাম্পে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেন এবং তিনি অনেক বিপদগামী বাংলাদেশীদের ভারতের বিএসএফ এর কাছ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ মুক্তিযোদ্ধাদের আইডেন্টিফাইকারী ছিলেন। যার কারণে এ ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের সনদপত্র পেয়েছিলেন। অথচ দুঃজনক হলেও সত্যি দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সেই ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ নিজেই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। এতে হতবাক ও মর্মাহত হয়েছেন তাঁর পরিবারের লোকজন।

এদিকে-১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে জিয়াউর রহমানের শাসনকালে আ.লীগের দুর্দিন ছিল। তখনও ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বরং অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে আ.লীগের হাল ধরে রেখেছিলেন। ১৯৮৯ সালে প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ¦ আবদুস সামাদ আজাদের আমন্ত্রনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জগন্নাথপুর এসেছিলেন এবং ইকড়ছই মাঠে বিশাল জনসভায় ভাষন দেন। এ সভা মঞ্চেও ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ ছিলেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে সেই গুণীজন ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপের মৃত্যু হয়। সেই গুণী ব্যক্তির নাম আজও মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়নি।

এ ব্যাপারে প্রয়াত ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপের ছেলে শিক্ষক রমেন্দ্র কুমার গোপ বলেন, আজ যদি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ¦ আবদুস সামাদ আজাদ, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবদুর রইছ, সাবেক এমপি আবদুজ জহুর, সাবেক এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, হোসেন বখত, আলফাত উদ্দিন আহমদ ও গোলাম রাব্বানীর মতো বরণ্য রাজনীতিবিদরা বেঁচে থাকতেন, তাহলে ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপের স্বাক্ষীর অভাব হতো না। যদিও ২০১৬ সালে ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপের ছেলে শিক্ষক রমেন্দ্র কুমার গোপ তাঁর বাবা প্রয়াত সুধীর চন্দ্র গোপকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সব ধরণের প্রমাণপত্র দিয়ে আবেদন করেন। তৎকালীন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির উক্ত আবেদনটি স্বারক নং-০৫.৪৬.৯০৪৭.০০০.১১.০০৫.১৫.৮৬৭ মূলে ০১/০৮/২০১৬ ইং তারিখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব বরাবরে প্রেরণ করলেও আজ পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। যে কারণে বাধ্য হয়ে শিক্ষক রমেন্দ্র কুমার গোপ তাঁর বাবা প্রয়াত ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল-আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ১৯ জুলাই শুক্রবার জগন্নাথপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল কাইয়ূম বলেন, প্রয়াত ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপ একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন এবং দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ভারতের বালাটে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। সেই গুণীজনকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আমরা মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যায়নপত্র দিয়েছি। আমরা আশা করি প্রয়াত ডাঃ সুধীর চন্দ্র গোপকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর অবদানের প্রতি সম্মান জানানো হবে। #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here