বাংলাদেশের এক সময়ের অপরিহার্য জিনিস হারিকেন এখন বিলুপ্তির পথে

169
কে এম রায়হান: হারিকেন এক সময়ের অপরিহার্য জিনিস এখন বিলুপ্তির পথে। একটা সময় ছিল যখন সন্ধ্যা হলেই মানুষের অপরিহার্য জিনিস ছিলো হারিকেন। কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে গেছে  হারিকেন, এখন কোথাও চোখে পড়েনা তার আলো।
হারিকেন এক সময় সাধারণ মানুষের নিত্যকার কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার বাহন ছিলো। দিন যত যাচ্ছে মানুষের জীবনে আধুনিকতার ছোয়া ততই আরো বেড়েই চলেছে। একসময় সন্ধ্যা হলেই ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা করার একমাত্র আলোর উৎস ছিলো হারিকেন। কারণ তখন ছিলো না কোন আধুনিক ভাবে আলো জালানোর ব্যবস্থা। বাড়ির  মুরুব্বিদের দেখা যেতো বাজার থেকে হারিকেন হাতে বাড়ি ফিরতে। হাট বাজারে সন্ধ্যা হলেই জ্বলে উঠতো হারিকেনের আলো, আর এই আলোতেই সারতো মানুষের সকল কাজকর্ম। হারিকেনে আলো জ্বালানোর উৎস ছিলো কেরোসিন। আর এই কেরোসিন এখন হাটে-বাজারে কোথাও খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না, চাহিদা না থাকায়। বিকাল হলেই মানুষ হারিকেন মুছে পরিস্কার করে রাখতো কারণ  সন্ধ্যা হলে জ্বালাবে বলে। হারিকেন  একটি কেরোসিন জমিয়ে রাখার পাত্রের উপর ভর করে সোজা  দাড়িয়ে থাকে। এই দাড়িয়ে  থাকার মাঝে থাকতো কাচের তেরী বৃত্তাকার চিমনী। এই চিমনী প্রতিদিনই পরিস্কার করা হতো ভালো আলো পাবার জন্য। এই চিমনী ঝড় বাতাস থেকে আলো নিশ্চিত করতে অনেক ভুমিকা রাখতো। কেরোসিন জমিয়ে রাখার পাত্রের মাঝখান দিয়েই আলো জ্বলতো  কাপড়ের তৈরী শলতের মাধ্যমে। আর এই শলতে বাড়ানো কমানোর জন্য একটি ব্যাবস্থাও ছিলো।
আগে গ্রামে গঞ্জে বিদ্যুতের আলো চোখে পরতো না, এখন দেশের আনাচে কানাচে বিদ্যুৎ পৌছে গেছে তাই হারিকেন এর কদর কমে গেছে। এখন সর্বত্র বিদ্যুৎ পৌছে যাওয়ায় হারিকেনের চাহিদা কমেছে আর চীনা কোম্পানিগুলো কমদামের বাতি গুলো দিয়ে বাজার দখল করে নিয়েছে। এখন হাত বাড়ালেই বাজারে পাওয়া যায় চীনের তৈরী স্বল্প মূল্যের রিচার্জেবল বাতি যার কারণে হারিকেনের চাহিদা শেষ হয়ে গেছে।
ওসমানীনগরের চিন্তামনি গ্রামের সিদ্দেক আলী ও দয়ামীর আতাউল্লাহ গ্রামের সুরুজ বলেন বলেন, এখনকার ছেলে মেয়েরা তো এই হারিকেন নামে কোন জিনিস ছিলো এইটা শুনলে বিশ্বাস করতে চাইবেনা।কারণ বর্তমানে তারা এর সাথে অপরিচিত। আগে রাতে রিক্সায় চড়ে আসতে হারিকেনের  ব্যবহার  হতো আর এখন রিক্সায় যে বাতি ব্যবহার হয় তার আলো চোখে পড়লে বিরক্ত লাগে। আগেকার সময় গুলো অনেক ভালো ছিল দিন যত যাচ্ছে মানুষও বদলে যাচ্ছে। আগামী প্রজন্মকে হারিকেন সম্মন্ধে জানাতে গেলে জাদুঘরে নিয়ে যেতে হবে।