পুলিশ সুপার নিজেই মিষ্টি নিয়ে আমার বাড়িতে:চাকুরিপ্রাপ্তর অভিভাবকরা

275
এম এ হাসান: ঐতিহ্য, সুনাম, মর্যাদা ও ইতিহাস সমৃদ্ধ সুশৃঙ্খল বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে, বিনাপয়সায় চাকুরীপ্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও অনেক বাড়িয়ে দিলেন এস পি আবু সায়েম। দিনাজপুর জেলায় নতুন চাকুরীপ্রাপ্তদের অভিভাবকবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ মনে করেন, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম(বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন মোট ৮০ জন (৫৪ জন ছেলে ও ২৬ জন মেয়ে) ছেলেমেয়েকে বিনা পয়সায় চাকুরী দিয়ে, বর্তমান সরকার ও পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা জনগণের কাছে চার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।উল্লেখ্য যে, বুধবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকদিন বিভিন্ন যাচাই বাছাই শেষে সোমবার (৮ জুলাই)সন্ধ্যায়, পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।উক্ত চূড়ান্ত ফলাফলে, দিনাজপুর জেলাতে নিয়োগপ্রাপ্ত মোট ৮০ জন ছেলে মেয়েকে, কোনরকম ঘুষ, অর্থ বা তদবির ছাড়া, শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যথাযথভাবে নিয়োগ নিশ্চিত করেন, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম।
বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার “দুর্নীতি ও ঘুষ মুক্ত সমাজ গড়ার”। সেই প্রত্যয় ও নির্দেশনাকে সামনে রেখে, শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার বিচার করে দিনাজপুর জেলাতে মোট ৮০ জন ছেলে মেয়েকে পুলিশ বাহিনীতে চাকুরির ব্যবস্থা করেন, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার। শুধু তাই নয়, পুলিশ সুপার আবু সায়েম, চাকুরীপ্রাপ্তদের প্রত্যেকর বাড়ি বাড়ি, স্বয়ং নিজে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে মিষ্টি খাইয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ১১ই জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকালে, দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার গোপীনাথপুর চাষারী পাড়া এলাকা থেকে চাকুরীপ্রাপ্ত একজন মেয়ে মনি রায় এর বাড়িতে হটাৎ করে মিষ্টিসহ উপস্থিত হলেন স্বয়ং পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম। এসময়, তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর সার্কেল সুশান্ত কুমার, কোতয়ালি থানার ওসি তদন্ত মোঃ বজলুর রশিদ সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।পুলিশ সুপার ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা মিষ্টি নিয়ে অভিনন্দন জানাতে চাকুরীপ্রাপ্তদের বাড়িতে পৌঁছালে, চাকুরীপ্রাপ্ত ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে।এছাড়া ওই দিন (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ছেলে মেয়েদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি খাইয়ে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান পুলিশ সুপার আবু সায়েম।পুলিশ সুপারের আকশ্বিকভাবে মিষ্টি নিয়ে উপস্থিতি প্রত্যেক চাকুরিপ্রাপ্ত ছেলে মেয়ে ও অভিভাবকদের কাছে ছিল অত্যান্ত আনন্দ ও আবেগপ্রবণ।
সেই সকল অভিভাবকদের মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৭নং উথরাইল ইউনিয়নের  গোপীনাথপুর (চাষারী পাড়া) এলাকার মেয়ে মনি রায় এর বাবা চানাচুর বিক্রেতা  রন্জিত রায়।খুব আনন্দ ও আবেগ আপ্লুত হয়ে তার অনুভূতি প্রকাশে বলেন যে, পুলিশ সুপার বিনা পয়সায় আমার মেয়েকে পুলিশে চাকরি দিয়েছেন এবং স্যার স্বয়ং নিজেই মিষ্টি নিয়ে আমার বাড়িতে এসেছেন, আমার মনে হয়, এ যেন স্বপ্ন দেখছি, আসলেই কি এটি সত্যি ? আমি একজন সাধারন চানাচুর বিক্রেতা খুব স্বল্প উপার্জনে আমার এই সংসার অভাব অনটন এর মধ্য দিয়ে চলে।সেই টানাটানির সংসারে খুব কষ্ট করে ছেলেমেয়েদেরকে লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করেছি। আমি কখনও ভাবিনি যে, বিনা পয়সায় আমার সন্তান চাকুরী পাবে।সেটা আবার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে।

আমি অত্যান্ত আনন্দিত, গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। আমি আমার অন্তরস্থল থেকে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ সুপার স্যারকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, বর্তমানে দেশে বিনা পয়সায় গরীব মেধাবী ছেলে মেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আগে থেকেই ছিল। আজকে, পুলিশ সুপার স্যার ও কর্মকর্তারা আমার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে অভিনন্দন জানাতে এসেছেন।পুলিশ সুপার স্যারের এই অকল্পনীয় উপস্থিতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথা বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আরো চারগুণ বাড়িয়ে দিলেন।এর কৃতজ্ঞতা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।আমি মনে করি সকলেই বিশেষ করে চাকুরিপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা আমার সাথে একমত হবেন।তাই, আমি চাকুরীপ্রাপ্ত সকল অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে আশীর্বাদ করছি, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম স্যার ও  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গরীব দুঃখী মানুষের কান্ডারী শেখ হাসিনা, আমাদের মাঝে অনেক অনেক বছর বেঁচে থাকুক।সব সময় তিনি সুস্থ থাকুক।এই বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তার বিকল্প হয় না।বাংলার প্রতিটি গরিব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য তিনিই মা জননী।

পুলিশ সুপারের এরকম ধরণের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগের বিষয়ে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও দিনাজপুর সদর সার্কেল সুশান্ত সরকার এর কাছে জানতে চাইলে, ১৫ জুলাই (সোমবার), জাতীয় দৈনিক কালজয়ী প্রতিনিধিকে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, সকল প্রকার ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ছাড়া ও সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পুলিশ বাহিনীতে চাকুরী নিশ্চিত করার যে কঠোর নির্দেশনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপি ডঃ জাবেদ পাটোয়ারীর পক্ষ থেকে ছিল।সেই নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করতে, দিনাজপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ও রিক্রুটমেন্ট প্রসেসে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বিশেষ করে, আমি, ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আলম, পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদরশন, দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত মোঃ বজলুর রশিদ সহ অন্যান্যরা অত্যান্ত আন্তরিকতার সহিত ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করতে সবসময় একত্রিত ভাবে কাজ করেছি।

পুলিশ সুপার মহোদয় সৈয়দ আবু সায়েম (বিপিএম) প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন, যেন নিয়োগে, কোথাও কোন প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি না ঘটে। এর প্রেক্ষিতে, নিয়োগ পরীক্ষার সময় তিনজন ভুয়া প্রার্থীকে আমরা আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আটকের পর রংপুরের ডিআইজির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।আপনারা সেটা নিশ্চয় জানেন। তাই আমরা দিনাজপুর পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, ৮০ জন কনেস্টেবল নিয়োগ শতভাগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে। এবং সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার বিবেচনায়, দিনাজপুর জেলাতে মোট ৮০ জন ছেলেমেয়ে পুলিশ বাহিনীতে চাকুরী পেয়েছেন। আশা রাখি, ভবিষ্যতেও পুলিশের সকল নিয়োগ এমন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে।
সার্কেল সুশান্ত সরকার আরো বলেন যে,পুলিশ বাহিনীর ঐতিহ্য, সুনাম ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে, সর্বোপরি দেশের জনগণের পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে, সম্মানিত পুলিশ সুপার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।দিনাজপুর জেলার কোথাও কোন দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন তিনি। তার ফলস্বরূপ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, স্বয়ং পুলিশ সুপার নিজেই মিষ্টি নিয়ে বিনাপয়সায় চাকুরী নিশ্চিত করার পরও চাকুরীপ্রাপ্তদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে, নিজ হাতে মিষ্টি খাইয়ে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন।আমি মনে করি, পুলিশ সুপার আবু সায়েম স্যারের, এই ধরনের কার্যক্রম, দেশের জনগণের নিকট নিঃসন্দহে প্রশংসনীয় এবং পুলিশ বাহিনীতে সকলের কাছে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here