আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে চলাচল করছে লাখো মানুষ, দেখার কেউ নেই!

80

জিএম মিজান: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দর থেকে পূর্ব দিকে সোনাতলা রোডের দুই কিলোমিটার রাস্তা অভিভাবকহীন হয়ে পরেছে। চরম বিপাকে রয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ। দেখার কেউ নেই! সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যায়, মোকামতলা টু সোনাতলা সড়কের এই দুই কিলোমিটার রাস্তায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে চলাচল করছে লাখো মানুষ। মুল রাস্তার কাজ শুরু হলেও মোকামতলা বন্দর এলাকার এই দুই কিলোমিটার রাস্তার কাজের কোন তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ। সর্বশেষ গত ২০১৮ সালের মে মাসে ঐ রাস্তাটি সংস্কারের কথা বলেও কেটে গেছে প্রায় ৮বছর। কিন্তু ভূক্তভোগী লাখো মানুষ অপেক্ষায় আছে কবে শেষ হবে এমন অসহনীয় দুর্ভোগ। সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা যায়, দুই কিলোমিটার এবরো-থেবড়ো রাস্তাটি খানা-খন্দকে ভরা। তাছাড়া রাস্তার দুপাশের ফুটপাত দোকানগুলো দখল করে নিয়েছে। নেই কোন স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এতে করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরেছে চরম বিপাকে। দখল দুষণে রাস্তাটি যেমন সংকীর্ণ হয়েছে তেমনি খানা খন্দকে রাস্তাটি পরিণত হয়েছে ছোট-খাটো খালে। রাস্তাটির এমন করুণ অবস্থা সরকারের দৃষ্টিগোচর করতে রাস্তায় ধানের চারা লাগিয়েও নিরব প্রতিবাদ করেছে এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, দুই কিলোমিটার সড়কটিতে প্রতিনিয়ত লেগেই আছে অসহনীয় যানজট। তার ওপর একটু পানি হলেই রাস্তা যেনো পরিণত হয় মরণ ফাঁদে। তারপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই রাস্তায় অতি কষ্টে চলাচল করছে লাখ লাখ মানুষ। তারা আরও জানায়, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার অসংখ্য বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। এছাড়াও রাস্তার দুইধারে অবৈধ ভাবে পার্কিং করে রাখা হয় সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও নছিমন-করিমন। এদিকে কাজ বিলম্ব হবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে ঠিকাদার নিয়োগ জটিলতা যা স্থানীয় কিছু সচেতন মহল নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে মোকামতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছার রহমান খলিফা জানান, সাঘাটা, সোনাতলা ও শিবগঞ্জ এ তিন উপজেলার কয়েক লাখ লোক প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে ঐ সড়কটি দিয়ে। অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলেও সংস্কারে কর্তৃপক্ষের অবহেলা আমাদের বিস্মিত করেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু মূল রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে সেহেতু অচিরেই এ ২কিলোমিটার রাস্তার কাজও শুরু হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দুই কিলোমিটার রাস্তা যেন কংক্রিটের করা হয় ও রাস্তার পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণেরও ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়াও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিও জানান তারা।