উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় জনসম্মুখে নারীকে পেটাল পুলিশ কর্মকর্তা

401

ইমদাদুল হক ইমরান: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কৌশলে থানায় ডেকে এনে কহিনুর খাতুন (৪২) নামে দুই সন্তানের জননীকে পিটিয়ে আহত করেছে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহানুর রহমান। আহত কহিনুর ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ-বাজার এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী কহিনুর খাতুন। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কহিনুর তার বাবা একই এলাকার জাবেদ আলীর বাড়িতে থাকেন। বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের দোকানের আয় দিয়ে কহিনুর সংসারের খরচ চালায়।

শাহানুর রহমান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে। সে ২০১০ সালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে চাকুরি করতো। ওই সময় কহিনুরের দোকানে প্রতিদিন খাবার খেত শাহানুর রহমান। সেই সুবাদে কহিনুরের সাথে তার গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে। কহিনুরের বাসায় শাহানুর রহমানের অবাধ যাতায়াত ছিল। ওই সময় শাহানুর কৌশলে কহিনুরের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

গত ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে শাহানুর রহমান বগুড়া থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন। এতে কহিনুরের সাথে শাহানুরের সম্পর্কের ফাটল ধরে। এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে পাওনা টাকা চেয়ে শাহানুরকে উকিল নোটিশ দেয় কহিনুর। কিন্ত উকিল নোটিশে সাড়া দেয়নি শাহানুর রহমান। ফলে বগুড়া আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নেয় কহিনুর। খবর পেয়ে শাহানুুর রহমান এক সপ্তাহ আগে কহিনুর খাতুনকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কহিনুর খাতুন পাওনা টাকার জন্য ধুনট থানায় আসে। এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহানুর রহমান পিটিয়ে থানা থেকে কহিনুরকে বের করে দেয়। আহত কহিনুর ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে সেখানেও পেটাতে থাকে শাহানুর। এ সময় স্থানীয় লোকজন কহিনুর খাতুনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে কহিনুর খাতুন বলেন, শাহানুর কৌশলে আমার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। সেই টাকা চাইলে সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্ত আমি তার প্রস্তাবে রাজী হইনি। ফলে সে আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সে আমাকে বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্ত করে। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেই। এ বিষয়টি জানার পর শাহানুর টাকা দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার সকালে কৌশলে থানায় ডেকে এনে আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষ ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ নামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তারপরও বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়থাপ্পর মেরেছি। খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরের দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত কহিনুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন ২ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।