লাকসামের ধর্ষণকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আইনে মামলা

131

চন্দন সাহা: লাকসামে চাকুরীর প্রলোভনে বহু নারী ও তরুনীকে ধর্ষনকারী ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই)সন্ধ্যায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে নারী-শিশু ও পর্নোগ্রাফি আইনে লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওইদিন বিকেলে র‌্যাব তাকে লাকসাম থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার কুমিল্লা র‌্যাব-১১ ভুয়া চিকিৎসক মীর হোসেনকে আটক করে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যায়। কথিত ওই ভুয়া চিকিৎসক লাকসাম রেলওয়ে জংশন বাজার এলাকার হাজী শাহজাহান মার্কেটে ডিজিটাল এ্যাডভাইস সেন্টারের পরিচালক। সে ওই সেন্টারে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে অসংখ্য নারী ও তরুনীকে ধর্ষনের কথা কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। র‌্যাব তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, কনডমসহ বিভিন্ন অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করে। গত সোমবার ধর্ষনের স্বীকার এক তরুনী কুমিল্লা র‌্যাব-১১ কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে আটক করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, লাকসাম রেলওয়ে জংশন বাজার এলাকায় ডিজিটাল এ্যাডভাইস সেন্টারে এক তরুনী চার মাস যাবত সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলো। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মীর হোসেন চাকুরীর শুরু থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কিন্তু আমি চাকুরী রক্ষা ও দরিদ্র পরিবারের জীবিকা নির্বাহের স্বার্থে সবকিছু সহ্য করে আসছিলাম। এক পর্যায়ে মীর হোসেন আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। গত চার মাসে সে আমাকে ৩০ বারের অধিক ধর্ষন করেছে। প্রতিবার ধর্ষন করার পর সে আমার শরীরে ব্যথা নাশক অজ্ঞাত একটি ইনজেকশান পুশ করতো। ধর্ষনের পর মীর হোসেন আমাকে হুমকী ধমকি দেয় এবং এ কথা যদি কেউ জানতে পারে তাহলে আমাকে চাকুরিচ্যুত করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখায়। আমি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম হওয়ায় তার এ নির্যাতন সহ্য করে আসছিলাম। কিন্তু দিন দিন তার অত্যাচার নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় নিরুপায় হয়ে গত সোমবার কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। গতকাল সন্ধ্যায় বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই )কুমিল্লা র‌্যাব-১১ ধর্ষনকারীকে লাকসাম থানায় হস্তান্তরের পর তার বিরুদ্ধে ধর্ষিতা ওই তরুনী বাদী হয়ে নারী-শিশু ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করে। লাকসাম থানা পুলিশের ওসি নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।