দেবীদ্বারে ঘাতক মোখলেছসহ ৪ লাশের দাফন সম্পন্ন উভয়ের ২ মামলা

108

এ আর আহমেদ হোসাইন: কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় এক শিশুসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে রিক্সা চালক মোখলেছ নামের ঘাতক।গত বুধ বার সকাল ১১ টায় ওই ঘটনা ঘটে।পরে স্থানীয় জনগন এলাকায় মাইকিং প্রচার চালিয়ে মোখলেস নামের ঘাতক কে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেন। এ ব্যপারে নিহতদের উভয় পক্ষ গতকাল বুধবার ২টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।মামলা(১)ঘতক মোখলেছের স্তী রাবেয়া বেগম তার স্বামীকে গনপিটুনীর দায়ে হত্যার কারনে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কারে ১০০০/ ১৫০০ জন কে হত্যা মামলা করেন। অপর দিকে নিহত নাজমার ছোট ভাই মোঃ রুবেল ঘাতক মৃতঃ মোখলেস কে দায়ী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আজ বিকালে নিহত আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে আবু হানিফ কে তালতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংলগ্ন কবর স্থানে দাফন করেন। অপর দিকে নুরুল ইসলামের স্তী নাজমা বেগম ও ঘাতক মোখলেছকে রাধানগর গ্রামের কবর স্থানে দাফন করা হয়।
গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক মোখলেছুর রহমান(৩৫) উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের মুর্তুজ আলীর পুত্র,সে পেশায় রিক্সা চালক।তার কোপের আঘাতে নিহত হয়েছিল দেবীদ্বার উপজেলার রাধানগর গ্রামের মৃত: শাহ আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম আনু (৪৫), পুত্র আবু হানিফ(১০), নুরুল ইসলাম’র স্ত্রী নাজমা বেগম(৪০)।

ওই দিকে আহতরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।মারাত্মক আহত রাধানগর গ্রামের নুরুল ইসলাম(৫৫) ও তার মা’ মাজেদা বেগম(৬৫), বজলু মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম(৪৫), আব্দুল লতিফ(৪৫), ফাহিমা(১০) এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪ জন রয়েছেন। তবে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন নাজমা বেগম (৪০) ও মাজেদা বেগম(৫৫)।

ওই ঘটনায় সংবাদ পেয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, ডিবি ও পিবিআই কর্মকর্তা, দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এ,এস,পি, দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জহিরুল আনোয়ার সহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ছাড়াও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জয়নুল আবেদীন, জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ শাহজাহান সরকার, সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সফিকুল ইসলাম সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘাতক মোখলেছুর রহমান’র স্ত্রী ও তার ভাই হারুন’র স্ত্রীকে থানায় নিয়ে আসেন। সরেজমিনে যেয়ে ওই ঘটনায় কোন প্রত্যক্ষদর্শি পাওয়া যায়নি। ঘাতক মোখলেছুর রহমান’র স্ত্রী রাবেয়া বেগম(৩০) জানান, তার স্বামী প্রতিদিন সকাল ৭/৮টা রিক্সা নিয়ে বের হলেও আজ ভোরে বের হওয়ার সময় তাকে এতো সকালে যাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে মোখলেছ বলে বৃহস্পতিবারে কিস্তি আছে, কিস্তির টাকা যোগার করতে হবে। একথা বলেই রিক্সা না নিয়ে একটি সিএনজিতে উঠে মোহনপুর বাজারে চলে যায়। বেলা ১০টার সময় ঘরে ফিরে আসে, এসময় তার হাতে একটি ব্যাগ ছিল ব্যাগের ভেতরে একটি দা দেখতে পায়। কিছুক্ষন পর দা’টা নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়। এসময় তার স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। ঘর থেকে বেড়িয়ে সামনে দেখা পাশ্ববর্তী ঘরের মৃত: খোরশেদ আলমের পুত্র তালতলা আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আবু হানিফ(১০)কে কুপিয়ে হত্যা করে এসময় তার মা মনোয়ারা বেগম(৪৫) পুত্রক বাঁচাতে এলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে, আমি (ঘাতকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম) তাকে নিবৃত করতে এগিয়ে গেলে আমাকেও ধাওয়া করে,পরে আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই।

ওই দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম জানান, মনোয়ারা এবং হানিফকে কুপিয়ে হত্যার পর রাস্তায় যাকে পায় তাকেই কুপাতে থাকে। তাকে কেউ নিবৃত করতে পারছিলনা। এক পর্যায়ে ছেচড়াপুকুরিয়া গ্রামের বজলুর রহমান’র স্ত্রী জাহানারা বেগম(৪০)কে কুপিয়ে তার নাড়িভূড়ি বের করে ফেলে। এসময় আরো কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয় একাধিক মাইকে এঘটনার বর্ননা দিয়ে গ্রামবাসীকে তাকে আটকের আহবান জানালে গ্রামবাসীরা তাকে ঘেড়াউ করে ফেলে। লোকজনের উপস্থিতি দেখে তার হাতে থাকা দা’টি পানিতে ফেলে দেয়। পরে সে গনপিটুনিতে নিহত হন।

ঘটনাটি রহস্যাবৃত হতে পারে বলে অনেকের ধারনা প্রায় ১০/১২ বছর পূর্বে তালতলা গ্রাম থেকে রাধানগর গ্রামে এসে ঘাতক মোখলস স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। একজন সাধারন রিক্সা চালক পাকা বিল্ডিং-এ বসবাস করার পেছনে অনেক রহস্য আছে বলে সাধারন মানুষের ধারনা,ওই দিকে রিক্সা চালানোর পেছনে মাদক ব্যবসায় জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন আছে বলে ওনেকের ধারনা,তা ছাড়া গত মঙ্গলবার  রাতে তার ঘরে নারী-পুরুষ সহ কয়েকজন লোকও এসেছিল। ওরা কারা কি জন্যে এসেছিল তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন আম জনতা। বিশেষ করে তার স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এঘটনার রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলে সাধারন মানুষ ধারনা করেন। সম্প্রতি গুজব খ্যাত পদ্মাসেতুকে কেন্দ্র করে শিশুদের মাথা কাটার বিষয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর পেছনে কোন রহস্য আছে কিনা তাও খোঁজ নেওয়ার বিষয় দাড়িয়েছে বলে অনেকের ধারনা।

ওই দিকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া রাধানগর গ্রামের এরশাদ মিয়ার মেয়ে রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী জুলেখা বেগম জানান, রাস্তার উপর একটি শিশু ও একজন লোককে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার দৃশ্য দেখে আমি চিৎকার করে উঠি, আমাকে দেখে সে আমাকেও ধাওয়া করে। এসময় পাশ্ববর্তী একটি ঘরের খাটের নিচে শ্বাস বন্ধ করে লোকিয়ে প্রাণ বাঁচাই।

ওই দিকে হত্যাকান্ডের মূল কারন রহসৎ উদঘাটন প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসী)মোঃ জহিরুল আনোয়ার জানান। ওই দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে গতকাল দুপুরে (ওসী) মোঃ জহিরুল আনোয়ার, নিহতদের স্বজনদের মাঝে দুপুর এর খাবার ব্যবস্থা করেন।সেই সাথে১৫০ কেজি চাউল,১০কেজি মশুর ডাল,ডিমসহ তৈল,পেয়াজ,আদা,রসুন সহ যাবতীয় সকল মশলাদি বিতরন করেন। তিনি আরও জানান যে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা সংক্রান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূল তথ্য কিংবা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কে অনুরোধ করে বলেন। এখানে গলা কাঁটার কোন ঘটনা ঘটেনি । ঘটনা সংক্রান্তে বিস্তারিত জানতে, জনাব মোঃ জহিরুল আনোয়া, অফিসার ইনচার্জ, দেবীদ্বার থানাঃ মোবাইল- ০১৭১৩-৩৭৩৬৮৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ প্রদান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here