চোরের উপদ্রবে ঘুমহীন রাতে কাটে গ্রামবাসীর

231

বিপ্লব আহমেদ: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় গরু চোরের উপদ্রব আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৪০ দিনে চুরি গেছে ৩৪টি গরু। এছাড়া একই সময়ে ২৭টি বাসাবাড়িতে চুরি হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানী ঈদের আগে গরু চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের সাধারণ গৃহস্থ ও খামারীরা উদ্বিগ্ন। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তারা। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে তারা।

জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাতে পৌরসভাধীন গোপালপুরে একটি বাড়ি থেকে গরু চুরি হয় এবং ওই রাতেই কামারখালী বাজারের এক চাল ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ১১১ বস্তা চাল ও আরো দু’টি দোকানের নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও অন্যান্য মালামাল চুরি হয়। এর আগে ৮ জুলাই সোমবার রাতে নওপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে গরু চুরির পরের রাতে কামারখালী বাজারের তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ৬ জুলাই আড়পাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আড়পাড়া এবং শান্তিপুর গ্রাম থেকে দু’টি বাড়ি থেকে ৪টি বড় গরু চুরি হয় যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। গত মাসের শেষ সপ্তাহে জাহাপুরে তিনটি বাড়ি থেকে ৭টি গরু চুরি হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। এছাড়া একই সময়ে আরো দু’টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।

মেগচামী ইউনিয়নে এ সময়ে দু’টি বাড়ি থেকে গৃহস্থের ৪টি গরু চুরি হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩লাখ টাকা। বাগাট ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে এসময়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটা গাভী চুরি ছাড়াও বাগাট বাজারের একটি দোকানে তালা ভেঙ্গে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়। আর নওপাড়া ইউনিয়নের দড়িবাজার আড়কান্দিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা দামের ১টি গরু চুরি হয়। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

মধুখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র মির্জা আব্বাস হোসেন চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত কয়েকদিনে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে ৫টি বাড়ি থেকে ১১টি গরু এবং ৮ জুলাই রাতে গোপালপুর গ্রাম থেকে ১টি গরু চুরি হয়েছে বলে জেনেছি। চুরি হওয়া এসব গরুর বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার মতো।পৌর মেয়র আরো জানান, এছাড়া মধুখালী থানার পূর্ব পাশে ৬ নং ওয়ার্ডে জনৈক আজিজ মিয়ার বাড়ি হয়। সাবেক এক এসআই এর ছেলের একটি মটরসাইকেল তালা ভেঙ্গে নিয়ে যায় চোরেরা। ৩নং ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া সাতাইনির মাঠে জাহাঙ্গীরের বাড়ি ও পশ্চিম গাড়াখোলা মহল্লার বনানী রোডে একটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি হয়। নগদ টাকাসহ প্রায় প্রায় তিন লাখেরও বেশি টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোর।

এসব চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে অনেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে উল্লেখ করে পৌর মেয়র বলেন, স্থানীয় থানা পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি ছাড়াও এলাকাভিত্তিক পাহারা বসানো জরুরী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও তৎপর হওয়া দরকার। নইলে এসব চোরকে ঠেকানো যাবে না।

মেগচামী ইউনিয়নের গরুর খামারী ইছহাক খন্দকার বলেন, গরিব মানুষের সম্বল এসব গরু চোরে নিয়ে গেলে আমরা বাঁচবো কিভাবে? তাই রাতে গরু খামারের সামনেই বিছানা পেতে শুয়ে থাকছি। বাড়ির ছেলেপুলে এমনকি বউঝিরাও গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে গরুর খবর নিতে আসে।

এ ব্যাপারে মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গরু চুরির বিষয়ে কিছু মামলা ও সাধারণ ডায়েরী হয়েছে থানায়। কোড়কদী ইউনিয়ন থেকে ৪ জন গরু চোরকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে চুরি হওয়া ৩টি গরু। তবে অনেক ঘটনার পরে থানায় অভিযোগ করা হয়না। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।