সাভারে গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কানাডিয়ান কলেজ ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

171

তৌকির আহাম্মেদ: সাভারের আশুলিয়ার মির্জানগর এলাকায় রাতের আধাঁরে কানাডিয়ান কলেজের সীমানা প্রাচীর, অফিসের আসবাবপত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাংচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে কানাডিয়ান কলেজে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ।

জমির মালিক ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে গনস্বাস্থ্যের মালিক ডা. জাফর উল্লাহ আমার জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিষয়ে ডা. জাফর উল্লাহ, গনস্বাস্থ্যের রেজিষ্ট্রার দেলোয়ার হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোর্তজা আলী বাবু ও আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় এবং আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। গত কয়েকদিন পূর্বেও রেজিস্টার দেলোয়ার হোসেন আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। এঘটনায় আশুলিয়া থানায় সাধারন ডায়েরী করা হলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের জমির সীমানা প্রাচীরসহ কলেজের অভ্যন্তরে ভাংচুর ও লূটপাট চালায়।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা কলেজ ভবনের প্রতিটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে বৈদ্যুতিক ফ্যান, সোফা সেট, দামী আসাবাবপত্র দুটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া কলেজের অফিস কক্ষে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরসহ শিক্ষার্থীদের যাবতীয় সনদপত্র, নগদ ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় জমির মালিক মোহাম্মদ আলী প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিচার দাবী করে বলেন, ডা. জাফর উল্লাহ নামে মুক্তিযোদ্ধা হলেও কাজে কর্মে মুক্তিযোদ্ধের বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে সরকার বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। ভাংচুর ও লুটপটের ঘটনায় র‌্যাব-৪ ও আশুলিয়া থানাকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয়ে জানতে গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে গনবিশ^বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলী মোর্তজা বাবুর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানিনা। কারন বিশ্ববিদ্যালয়ে জমির বিষয়টি দেখেন ষ্ট্রাষ্টি বোর্ডের লোকজন।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক বিজন কুমার দাস বলেন, ভাংচুর ও লুটপাটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এসময় কানাডিয়ান কলেজের সীমানা প্রাচীর, অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের সতত্যা পাওয়া গেছে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জমির মালিকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দয়ের করা হলে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।