কলেজের নামে ভরাট হচ্ছে ঝিলটুলীর ঝিল

46

বিপ্লব আহমেদ: শহরের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আবাসিক এলাকা ঝিলটুলীর ঝিলের অবশিষ্ট অংশটুকুও ভরাট করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন যাবত পদ্মা নদী থেকে বালি মাটি এনে অনাথের মোড়ের কাছে ঐতিহ্যবাহী ঝিলের শেষ অংশ ভরাট করা হচ্ছে। এই অংশটুকু ভরাট হয়ে গেলে ঝিলটুলীতে ঝিল বলে আর কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। এতে পানি নিষ্কাশন ও অগ্নি নির্বাপণে সমস্যাসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে।

আনুমানিক এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই ঝিলটি ফরিদপুর খালের বাদামতলি সেতুর কাছ থেকে শুরু হয়ে অনাথের আচারের মোড় হয়ে দক্ষিণে কমলাপুর মহল্লার ঢোল সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। এই নৌপথটি ছিল শহরের পানি নিষ্কাশন ও জরুরি প্রয়োজনে পানি সরবরাহের অন্যতম উৎস। ঝিলের শুরুর পথে উত্তর পাশে টাউন থিয়েটার থেকে অম্বিকা হল পর্যন্ত অংশটুকু ১৯৭৯ সালে স্থায়ীভাবে ভরাট করে ফেলা হয়। এখন পুরাতন স্থাপনা ভেঙে সেখানে ১০ তলা বিশিষ্ট পৌর সুপার মার্কেট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ওই ঝিল ভরাট করে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, বি এম এ ভবন, প্রকৌশল সমিতি, চৌরঙ্গী হোটেল, সুফিক্লাব পাঠাগারসহ বিভিন্ন নামে স্থাপনা নির্মিত হয়েছে।

অনাথের আচারের দোকানের মোড় পর্যন্ত টিকে থাকা ঝিলটির অবশিষ্ট প্রায় ৫শ মিটার জুড়ে গত মাস থেকে ভরাট করা হচ্ছে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্যোগে। রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশার্রফ আলী দাবি করেন, ১৯৫৫-৫৬ সালে এক নিলামের মাধ্যমে ঝিলটির এই অংশের মালিক হয় রাজেন্দ্র কলেজ। ঝিলের পাড়ে নতুন একটি ছাত্রীনিবাস স্থাপন করা হয়েছে। এখন ঝিল ভরাট করে ওই ছাত্রীনিবাসের সীমানা প্রাচীর হবে।

ভরাট কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিনিধি গোলাম মনসুর নান্নু জানান, গত ১ জুন থেকে রাজেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষ এটি ভরাট করাচ্ছে। প্রতিদিন পাঁচটি ট্রাকে মাটি এনে ফেলা হচ্ছে। ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহাতাব আলী বলেন, ওই ঝিলটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে আমাদের জানা ছিল। এখন শুনছি এর মালিকানা রাজেন্দ্র কলেজসহ বিভিন্ন ব্যক্তি। পৌর মেয়র জানান, শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বৃষ্টির পানি ওই ঝিল দিয়ে অপসারিত হয়। ঝিলটি ভরাট করে ফেলা হলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। ফরিদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ওই ঝিলটিতে পানি প্রবাহের ধারা সচল রেখে কাজ করার জন্য রাজেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শহরের ঝিলটুলী উত্তর কালিবাড়ি নিবাসী প্রবীণ সাংবাদিক আহমেদ ফিরোজ বলেন, শুধু পানি নিষ্কাশন নয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই আবাসিক এলাকায় অগ্নিনির্বাপণসহ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে এই ঝিলটিকে ভরাট না করে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি ছিল। আদালতে মামলা থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ সে সব আমলে না নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঝিল ভরাট করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here