হজ চিকিৎসা সহায়ক দল গঠনে অনিয়ম

182

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন: গত ৪ জুলাই ধর্ম মন্ত্রনালয় এবারের বাংলাদেশের হজ। যাত্রীদের সৌদি আরবে চেকিৎসা সেবা দিতে ৪টি দলে বিভক্ত করে ১১৮ জন সদস্যে নিয়ে হজ্ব চিকিৎসক সহায়ক দল গঠন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন ।মনোনয়ন প্রাপ্ত সহায়তাকারী মেডিকেল ,ক্লিনিকে রোগীদের সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা পরিস্কার,ক্লিনিক পরিস্কার রাখা ,রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ গ্রহণে সহায়তা কাজে নিয়োজিত থাকবেন ৯ আগষ্ট হইতে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট বেয়াল্লিশ দিন।এরই মধ্যে মনোনয়ন প্রাপ্তদের নিয়ে চলছে অনিয়মের নানা মন্তব্য। অজ্ঞাত কারণে পুর্বে নিয়োগ প্রাপ্ত ৫৪ জন নার্সকে অনিয়মও দুর্নীতির মাধ্যমে বাদ দিয়ে নতুন ৫৪ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে দুইজন সরকারী হাসপাতালের কাজে ও একজন হজ্ব ক্যাম্পের পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে,আর অন্যান্যরা হচ্ছেন ঢাকা হজ অফিসের সহকারী হজ অফিসার,ইসলামী ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ অফিসার,ফিল্ড সুপারভাইজার,খাদেম,মুয়াজ্জেম,জাতীয় সংসদের সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর,সহকারী সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর, রাজধানী ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক,ফার্মাসিস্ট,দুদক কমিশনারের গানম্যান,বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা,পুলিশ ও এসবির এ এস আই,কনস্টেবলসহ অফিস সহায়ক ও গাড়িচালক।

জানাযায়, কেহ কেহ আবার একাধিকবার এই দলের সদস্য হয়েছে। গত বছর গাড়ির মোটর ম্যাকানিকসহ সংশ্লিষ্ট নয় এমন একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োজিত করা হয়েছিল এবং হাজিরা চিকিৎসা সেবা তেমন পায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

হজ্ব চিকিৎসক সহায়ক দলের সদস্য মনোনয়ন নিয়েও গোপন অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রতি বছরই শোনা যায়,কেননা এ দলের সদস্য হতে পারলে কয়েক লাখ টাকা বেতন ভাতা পাওয়া যায়। নিয়োজিত সদস্যর বেতন ভাতা প্রতিদিন আঠারো হাজার টাকা করে এক মাস বারো দিনে জন প্রতি সাড়ে সাত লাখ টাকা করে পাবেন ,আর সে জন্যই মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এই তালিকা তৈরীকরা হয় বলেও মন্তব্য করেন একাধিক ব্যক্তি।

ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে বলা হয় ,যেসব রোগী শয্যায় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সহায়তা কারীরা বাংলাদেশের হাসপাতালে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন ঠিক সেভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।কিন্তু বরাবরই হজ্ব সহায়তা কারী দলের মনোনয়ন নিয়ে নানা অনিয়ম অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অনেকে মন্তব্য করেন,হজ্ব চিকিৎসক দলের সহায়তাকারী হিসেবে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তারা আদৌ রোগীদের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার ,ক্লিনিক ধোঁয়া মোছাকিংবাশয্যা পাশে হাসপাতালে যেভাবে সেবা দেওয়ার কথা সেভাবে সেবাদিতে পারবে কি?তাদেরতো হাসপাতালে যেভাবে সেবা প্রদান করা হয় তার আকারই কার কোন অভিজ্ঞতা নেই।

ধর্ম মন্ত্রনালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানান ,অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার কথা ভেবে নয়,প্রভাবশালীদের সুপারিশেই এ তালিকা প্রণীত হয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে হাজীরা কাঙ্খিত সেবা পাবেন কিনা প্রতিবারের মতো এবারও প্রশ্ন থেকে গেলো। বিষয়টি অপ্রিয় মনে হচ্ছে বিধায় হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।