সিরাজগঞ্জে ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

146

হুমায়ুন কবির সুমন: স্বামী ট্রাফিক সার্জেন্ট বিরদ্ধে যৌতুক, নির্যাতন ও প্রাননাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী রানী পারভীন। গতকাল শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেসকাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় লিখিত বক্তব্য বলেন ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমান আতিকের সাথে ৮ লক্ষ টাকা কাবিন নামায় বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে ট্রাফিক সার্জন পদে চাকরি নেবার কথা বলে আমার এবং আমার পরিবারের নিকট তেকে আরো নগদ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে আমার উপর প্রায় সময় নির্যাতন চালায়। এসময় বাড়ি তেকে আরো ৮০ হাজার টাকা ও একটি সোনার চেইন দেয়া হয়। কিন্তু তাতে সে সন্তুষ্ট না হয়ে আবারো টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরে ঐ নিযার্তন সহ্য করতে বাবার বাড়ী চলে আসি। এব্যাপারে আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। এতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে আদালতে মুচলেকা দিয়ে সংসার করবে মর্মে আমাকে দিয়ে জামিন করিয়ে বাড়ি আসে। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই আবারো যৌতুকের জন্য চাপ শুরু করে। আমি তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজ বাড়িতে চলে আসি এবং বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করায় তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ, গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলনকে দিয়ে স্থানীয় পুলিশ সুপারকে ফোন করাই। কিন্তু তাতে কোন সমাধান না হওয়াতে নিজেই একটি আবেদন করি নাটোর পুলিশ সুপার বরাবর। কিন্তু তাতেও কোন সমাধান না হওয়াতে ১ ডিসেম্বর আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলে সে নিজ স্ত্রীকে (আমাকে) নিয়ে সংসার করবে বলে আদালতের নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিনের আবেদন করলে ১৬ মার্চ ২০১৭ তারিখ সে জামিনে বের হয়ে আমাদের বিয়েকেই অস্বীকার করে এবং ৪এপ্রিল সে উল্টো প্রতারণা মামলা করে। কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক বিয়ের কাবিন নামা দেখে মামলাটি মিথ্যা এবং বানোয়াট বুঝতে পেরে ২জুলাই বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়াতে বিচারক নিজে উপস্থিত থেকে পুনরায় বিয়ে পরান এবং আমাকে নিয়ে ঘর সংসার করবে বলে প্রতিজ্ঞবদ্ধ হয়। এভাবে কিছু দিন ভালো ভাবে চলার পর আবারো সেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে এবং আমার শ্বশুর এর সাথে আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তিতে কোন উপায়ন্ত না দেখে আমি আবারো মামলা করি। চলতি বছরের ৩০মে আমার মামলার দিন ধার্য্য হওয়াতে সে আদালতে আসে এবং আমাকে আবারো ভুল বুঝিয়ে আদালত থেকে আমাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় পতিমধ্যে স্থানীয় পাঙ্গাসী বাজার এলাকায় সিএনজি থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে দিয়ে চলে যায়। এঘটনার পর আমি রায়গঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করতে গেলে কোন থানা আমার জিডি গ্রহণ করেনি। পরবর্তিতে ৩ জুন ২০১৯ আমি আদালতে একটি মামলাকরি এবং বিচারককে আমার সকল কথা খুলে বলি। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। কিন্তু মামলার পর থেকে আমাকে এবং আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। চলমান মামলার তারিখ থেকে সে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক অফিসে আসে এবং তার সহকর্মি পুলিশ বন্ধুদের দিয়ে নানা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, পুলিশ ব্যুরো পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিতে গড়িমসি করছে। এ অবস্থায় আমি এবং আমার পরিবার আমাদের জানমাল নিয়ে দারুন শংকার মধ্যে দিনাতিপাত করছি। তাই তার এহেন কার্যকলাপ বন্ধসহ চলমান মামলা থেকে ন্যয় বিচারসহ তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি এজন্য পুলিশ সুপারেরও সুদৃস্টি কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গনমাধ্যম কর্মিরা উপস্তিত ছিলেন।