কেশবপুরে সংখ্যালঘূ সম্প্রদায়ের যাতায়াতের রাস্তা জবর দখল:৩৫ পরিবার জিম্মি

97

যশোর প্রতিনিধি: কেশবপুরের নারায়নপুরে সংখ্যালঘূ সম্প্রদায়ের জমি ও যাতায়াতের রাস্তা প্রতিবেশী পুলিশে চাকুরীজীবি বাখার উদ্দীন শেখ-গংরা জবর দখল করে নেওয়ার কারণে ৩৫ পরিবারের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। দখলকারীরা বিভিন্ন প্রকার হুমকী প্রদান করছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানাগেছে, উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মৃত অনীল কুমার বসুর পূত্র বিমল কান্তি বসু, মনোতোষ কুমার বসু ও পরিতোষ কুমার বসু ২০০২ সালের ২৯ শে সেপ্টেম্ব একই গ্রামের মৃত গোলাম সরোয়ারের পূত্র বাখার উদ্দীন গংরা নারায়নপুর মৌজার সাবেক ১৪১৩ দাগের, সাবেক ৮৮৮ খতিয়ানের ১ একর ৩৫ শতক জমির মধ্যে ২১ শতক জমি কবলা দলিল করে দেয়। যার দলিল নং- ৬০৫৩।

নারয়নপুর মৌজার সাবেক ১৪১৩ দাগের ১ একর ৩৫ শতক জমির মধ্যহতে ১/১৮/৬৭ নং খতিয়ানে ওয়ারেশ সূত্রে ৬৭ শতক জমি ভিপি অবমুক্তকরণের আওতায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদ মোহাম্মদ মোমেন মজুমদার ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রদান করেন। উক্ত জমির উপর মৃত অনীল কুমার বসুর পূত্র বিমল কান্তি বসু, মনোত্ষে কুমার বসু ও পরিতোষ কুমার বসু বসতবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘ বছর বসবাস করে আসছে। উক্ত বসতবাড়ির পাশ দিয়ে প্রতিবেশীদের যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী বাখার উদ্দীন গংরা নির্মাণ করা বসতবাড়ির কিছু অংশ তাদের জমি দাবী করে বাড়িতে কেউ না থাকায় জবর দখল করে নিয়েছে। বসতবাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসি জিম্মি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বিমল কান্তি বসু, মনোতোষ কুমার বসু ও পরিতোষ কুমার বসুর বাড়ির সামনে জোরপূর্বক তারা নারিকেলের চারা রোপন করেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় অর্থশত নারী-পুরুষ উক্ত রাস্তা দখল মুক্তির দাবী জানান। এব্যাপারে মৃত অনীল কুমার বসুর পূত্র বিমল কান্তি বসু জানান, বাখার উদ্দীন গংদের নিকট থেকে জমি ক্রয়য়ের পরে তারা জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরে আমরা বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। তারপরও ঐ জমি তাদের দাবী করে আমাদেরকে হয়রানি করে আসছে। ঐ এলাকায় বসবাসকারী গোপাল হালদার অর্জুন পালিত, বিমল পালিত, প্রহ্ণাদ কর্মকার, ও সন্ধ্যারানী কর্মকার জানান, আমরা এই এলাকার ৩৫ টি পরিবার যাতায়াতের জন্য ঐ রাস্তাটি দীর্ঘ বছর যাবৎ ব্যবহার করে আসছি। আমরা সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের লেক হওয়ায় এই রাস্তার নিকটতম প্রতিবেশি মৃত গোলাম সরোয়ারের পূত্র বাখার উদ্দীন গংরা জবর দখল করে আমাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।

এব্যাপারে প্রতিবেশি বাখার উদ্দীনকে বাড়িতে না পেয়ে তার স্ত্রীর সাথে আলাপকালে জানান, সাবেক ১৪১৩ দাগের, সাবেক ৮৮৮ খতিয়ানের ১ একর ৩৫ শতক জমির মধ্যে ২১ শতক জমি কবলা দলিল করে দেওয়া হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তারা আমাদের সীমানা দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে। আমরা তাদের জমি জবর দখর করছি না। আমাদের জমিটুকু দখল মুক্ত করতে চাই।