‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ ধামাচাপা দিতে উপ-খাদ্য পরিদর্শককে বদলি

98
মোঃ তাসলিম উদ্দিন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার নিয়ম থাকলেও এখানকার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ধান কিনছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা ফায়দা লুটছেন সরাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামীম আহমেদ এবং সরাইল খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফছা হাই।এদিকে সরাইলে ধান সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতি’র কারণে এই কর্মসূচির আওয়ামী লীগ সরকারের মহৎ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে- এমন তথ্য পরিবেশনে এ নিয়ে গত দুই দিন আগে বিভিন্ন পত্রিকায় ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে উঠেছেন। ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তথ্য স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ায় উপজেলার উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনির হোসেনকে অন্যত্র বদলি করিয়েছেন স্থানীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুইজনে মিলে। অপরদিকে এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এ বিষয়ে কড়া মন্তব্য করে বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামীম আহমেদ ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হাফছা হাই দু’জনে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক ফায়দা লুটে কৃষকের পরিবর্তে তাদের কাছ থেকে ধান কিনছেন টোকেনের মাধ্যমে। ধান সংগ্রহে তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই তারা উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনির হোসেনকে বদলি করিয়েছেন।
বুধবার (০৩ জুন) দুপুরে উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনির হোসেন সাংবাদিকদের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, মঙ্গলবার বদলির চিঠি হাতে পেয়েছি। জেলার নবীনগর উপজেলায় আমাকে বদলি করেছেন কতৃর্পক্ষ। উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম কর্মকর্তা দু’জনে মিলে উধ্বতন কতৃর্পক্ষকে ভুল বুঝিয়ে আমাকে বদলি করিয়েছেন। আমার অপরাধ, সাংবাদিকদের কাছে ধান সংগ্রহের সরকারের নীতিমালার তথ্য প্রকাশ করা। মনির হোসেন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে খাদ্য নিয়ন্ত্রক যেভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আমি সেইভাবেই কাজ করেছি।
বুধবার বিকেলে এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামীম আহমেদ সাংবাদিককে  বলেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মনির হোসেনকে বদলি করেছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের হাত নেই। তাছাড়া মনির হোসেন সরাইলে দীর্ঘ দিন চাকুরি করছেন। এখানে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে শামীম আহমেদ বলেন, আমি অনিয়ম করবো কিভাবে। ধান সংগ্রহে স্থানীয়ভাবে কমিটি করেছেন ইউএনও স্যার। এ বিষয়ে মাঠে কাজ করছেন ইউএনও স্যার, মাঠ তদারকি করছেন ইউএনও স্যার নিজেই। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।