মা” তোমার প্রতীক্ষায়

64

কালজয়ী রিপোর্ট: “মা”কেমন আছো জানিনা; সর্বদা প্রার্থনা করি- তোমার সর্বময় শান্তির জন্য; “মা” আমার বুকের ভেত রেইতো তোমার বসবাস- তবুও একটিমাত্র নিঃস্বাসের দূরত্বের কারনে কথা হয়না বহুদিন- সময়ের দেয়াল ভেদ করে দেখা হয়না দু’জনের মাগো আমায় ভুল বুঝোনা; এই পৃথিবীর রঙিন মোহ মায়ার ব্যস্ততা থেকে এখনো আমার ছুটি মেলেনি (মিলছে মিলছে করেও ডাক্তার নামের হৃদয়হীনদের বানিজ্যের কাছে আটকে গেছি ক’বার। এরা সব্বাই হয়তো মায়ের আচলের ছায়া পায় বলেই বুঝেনা যে, আমার মায়ের কাছে যাওয়ার আকূতি কেমন) ছুটি হলেই তোমার কোলে ফিরে আসছি মাগো মাগো ছুটি নেই তবু মনটা ভিষন পালাই পালাই করছে তোমার জন্য আজ ক’দিন একটি প্রশ্ন চারদিক থেকে আমাকে তাড়া করছে- এই বুড়ো পৃথিবীর সাড়ে সাতশো কোটি মানুষের মুখে চেয়ে চেয়ে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি; এরা মহাশূণ্যের বুক চিরে বিজয় উল্লাশ করতে পারে- তবু ছোট্ট একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনা; কবে ছুটি হবে? কবে আবার দেখা পাবো আমার মায়ের? “মা” বলোনা! আর কতদিন এই পাহাড় সম শূণ্যতা বয়ে বেড়াবো বুকে? নিরবে নিভৃতে আর কতোদিন শোকের আগুনে জ্বলবো মা? আর কতটুকু অশ্রু ঝরলে শান্ত হবে- ছাব্বিশ বছর ধরে জ্বলতে থাকা- বুকের আলোহীন আগ্নেয় গিড়ি? মনে আছে মা? তিনশো দশদিন পেটে ধারন করেছিলে হাসি মুখে সহ্য করেছিলে নিদারুন যন্ত্রনা; তারপর এই আমার- পৃথিবীর আলো দেখা! দুধের পবিত্র প্রতিটি ফোটায় ভর করে বেড়ে উঠা চার পাউন্ডের একটি ছোট্ট দেহ মা মনে আছে- তার পরের কিছু কথা? তোমার বুকে মাথা না গুজে – তোমার পবিত্র শরীরের ঘ্রান না নিয়ে- আমার ঘুম আসতোনা; তোমার গায়ে কি যেন এক অমৃত স্বাধ পেয়েছিলাম; সারাক্ষন দাতহীন মুখ দিয়ে শুধু কামড় বসাতাম; কত্তো আচড় কেটেছিলাম ধারালো নখ দিয়ে! তোমার কোলেই ছিলো – ‘মাত্র কিছুদিনের পরিপূর্ণ পৃথিবী আমার’ তারপর…. এক কাক ডাকা ভোরে- আমায় শূণ্য করে- একাকী অন্ধকারে- চলে গেলে পরপারে…. দূর বহুদূরে…. “মা” ছাব্বিশটি বছর একখানা ছবি বুকে ধরে রেখেছি; এমন কোন দিন নেই- যার সকাল আমায় প্রশ্ন করেনা ‘ মায়ের মমতা কেমন’? এমন কোন নিঃস্বাস নেই – যে আমায় প্রশ্ন করেনি ‘ মায়ের গায়ের ঘ্রান কেমন’? এমন কোন ঘাম ভেজা দুপুর নেই- যে আমায় প্রশ্ন করেনা ‘ মায়ের আচলের ছোয়া কেমন’? প্রতিটি মূহুর্তেই বুকের পাজর ভেদ করে একটি প্রশ্ন “মায়ের ভালবাসা কেমন”? “মা” তুমিই বলো- তোমার এতটুকু সান্নিধ্যই কি আমার জন্য যথেষ্ট ছিলো? আর ক’টা দিন হ’লে স্রষ্ঠার মহাবিশ্বে এমন কি ক্ষতি হতো? অন্ততঃ আর একটা দিন যদি তোমার মমতা পেতাম; অথবা একটা ঘন্টা… অথবা আর একটা ছোট্ট মূহুর্ত! মা জানো? আমার চার পাশের মানুষগুলো বড্ড ব্যাস্ত; এদের সকলের ব্যাস্ততা সুখী সুন্দর আগামীকে ঘিরে। অর্থ বিত্ত আর দীর্ঘায়ুর পেছনে লাগামহীন ছুটেচলা মানুষগুলোর ভীরে – আমি ভীষন একা আর ব্যাতিক্রম! ‘অর্থ বিত্ত নয়’ – আমি খুজি ‘তোমার কোলের আশ্রয়’ ‘দীর্ঘায়ু নয়’ – আমি খুজি ‘জীবনের শেষ’ যে শেষ দিয়েই আবার শুরু হবে আমার কাঙ্খিত পরিপূর্ণ জীবন (কারন, পার্থিব এই জীবনের শেষেইতো আবার আমি ফিরে যাবো তোমার কোলে- আশ্রয় পাবো তোমার আচল ছায়ায়) “মা”…. মাগো … বলোনা মা আর কতোদিন প্রতিক্ষায় রবো আমার সেই ছুটির? আর কতোদিন পর আবার দেখা হবে তোমার সাথে? কতোদিন পর আবার তোমার বুকে জড়িয়ে ধরবে- আচল দিয়ে মুছে দেবে কপালের ঘাম? আর কতোদূর পথ পেরিয়ে পাবো – তোমার বুকের আশ্রয়? আমার অনন্ত আশ্রয়!! “মা” আর কতো দূর…. কতো দূর…?

লেখক ঃ এম. জহির বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here