সিরাজগঞ্জে প্রতিবন্ধী মেয়ে চাঁদের কণার আমরণ অনশন

115

মাসুদ রানাঃ সিরাজগঞ্জ কাজিপুর উপজেলায় প্রতিবন্ধী মেয়ে চাঁদের কণার চলছে আমরণ অনশন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিয়াড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল কাদেরের মেয়ে চাঁদের কণা (৩১)। শিশুকাল থেকেই সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও থেমে ছিলনা তার লেখা পড়া। হাতের উপর ভর দিয়ে হেঁটেই ২০১৩ সালে ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রিতে প্রথম বিভাগ অর্জন করেন।এতো কষ্টে অর্জিত সার্টিফিকেট কাজে লাগাতে না পেরে আবেগ প্রবন কন্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন শত বাধাবিপত্বি অতিক্রম করে এ পর্যন্ত এসেছি।সে প্রতিবন্ধীর অভিসপ্ত জীবন থেকে মুক্তি চান। সে চায়না কারুর দয়ায় বা বোঝা হয়ে বেচে থাকতে। এ অবস্থায় আসতে তাকে পোড়াতে হয়েছে অনেক কাঠ খড়ি। তাই যোগ্যতার ভিত্তিতে চায় একটি সরকারী চাকরী। একটি চাকরীর আশায় মানুষের দুয়ারে অনেক ঘুরেছে পায়নি চাকরী, এমন কি? প্রতিবন্ধী কোঠাতেও না। নিরূপায় হয়ে বুধবার সকাল থেকে শুরু করেছে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের জননী, জননেত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস চান তিনি। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দিনেও চলছে অনশন,চলবে চাকরি ও সরকারের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত।

তার স্বজন ও প্রতিবেশি সুত্রে জানা যায়, ৯ মাস বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে দু’পায়ের কার্য্যক্ষম হারিয়ে ফেলে। মায়ের সচেতনায় চাঁদের কণাকে ইস্পাতের গড়ে উঠতে সহায়ক হিসাবে কাজ করেছে। মায়ের সহায়তা, তার প্রচেষ্ট ও অদম্য ইচ্ছা শক্তি হারমানতে বাধ্য করেছে প্রতিবন্ধীকে।সে যখন অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী তার স্কুলশিক্ষক মা মোছাঃ হাসনা হেনা বেগম মারা যান। এর কয়েক বছর পর তার বাবা আব্দুল কাদের ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এবং বাবার অসুস্থতাজনিত কারণে তার জীবনে প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে নেমে আসে চরম দরিদ্রতা। অবশেষে পড়ালেখার খরচ জোগাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সামান্য বেতনে চাকরি নেয় । শত কষ্টের মাঝেও গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে সফলতার সঙ্গে অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি।

চাঁদের কণা জানান, সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। অর্জন করেছেন প্রথম বিভাগ। শুধু তাই নয়, পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকা-ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন। ভারোত্তোলন থেকে শুরু করে টিভি-রেডিওথতে সংবাদ পাঠ; টিভি প্রোগ্রাম গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনা; নাটক, গল্প ও কবিতা লেখা; অভিনয় করা ও কবিতা আবৃতি করা; গল্প বলা; ছবি আঁকা এবং কম্পিউটারে সব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।

সে আরও জানান, রাজশাহী মাদার বক্স গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে সে অনার্স পড়েছে। পঞ্চম তলায় তার ক্লাস হতো,অন্যান্য ছাত্র/ছাত্রীরা ক্লাসে আসতো ৯টার সময়। কিন্তু চাঁদের কণা হাতে উপর ভর করে পঞ্চম তলায় উঠতে দু’ঘন্টা সময় লাগায় ৭টার সময় প্রতি দিন কলেজে পৌছাতো।

চাঁদের কণা বলেন, স্কুলজীবন থেকে শুরু করে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত এমন লক্ষ্য-কোটি বাধা পেরিয়ে প্রতিবন্ধিতাকে জয় করেছি একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য। যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছি। এ বছরই আমার সরকারি চাকরির বয়স শেষ। তাই বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনে বসেছি।

অনশনে বসা চাঁদের কণার হুইলচেয়ার ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন বার্তা লেখা ২০টির মতো প্ল্যাকার্ড। গলায় ঝুলছে, ‘আমি আমার মা প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা চাই। তার সাথে দেখা করতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here