হঠাৎ বেড়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের দাম

120
এম এ করিম: সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের  বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে সব ধরনের আমের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। এরইমধ্যে বাজার থেকে জাত আম খ্যাত গোপালভোগ, লক্ষ্মণভোগ বিদায় নিয়েছে। আর হাতেগোনা কয়েকটি বাগানেই রয়েছে আরেক জাতের আম ক্ষিরসাপাত (হিমসাগর)।

আজ মঙ্গলবার  (২৫ জুন) চাঁপাইনবাবগঞ্জের  বাজারে প্রতি মণ ক্ষিরসাপাত(হিমসাগর)  আম বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। অথচ গত সপ্তাহেই এই আম ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার  টাকায় বিক্রি হয়েছে। সরবরাহ কমতে শুরু করায় বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই সুস্বাদু আমের দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ সপ্তাহের আর মাত্র ২-১ দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের  বাজারে ক্ষিরসাপাত (হিমসাগর) আম পাওয়া যাবে। তারপর থেকে উঠবে অন্য জাতের আম। বলতে গেলে বর্তমানে ল্যাংড়া আমই একক রাজত্ব করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে।

তবে সেই আমও অবসান হতে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহেই। এর পরপরই বাজারে পাওয়া যাবে সুরমা ও মহারাজসহ বিভিন্ন নামের সুস্বাদু ফজলি, আম্রপালি ও দুধস্বর সহ নতুন নানা জাতের আম। সর্বশেষ জুলাই মাসের শেষ দিকে বাজারে উঠবে আশ্বিনা জাতের আম। তবে আঁশ ও টক স্বাদের কারণে এই আম কেনার আগ্রহ বরাবরই ক্রেতাদের থাকে না।তবে এ আম মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য আম না পাওয়ায় চড়া দামে কিনতে হয়  ক্রেতাদের।

এদিকে শেষ মুহূর্তে অনেকটা বাধ্য হয়েই ক্রেতারা নিজের, পরিবারের ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা স্বজনদের জন্য বাড়তি দাম দিয়ে কিনছেন ক্ষিরসাপাত(হিমসাগর) আম।এছাও দাম বেশি থাকলেও মৌসুমের শেষ দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে।ব্যাপারী সহ ব্যস্ত সময় পার করছে খ্যাতনামা কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকা, খুলনা, চট্রগ্রাম, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো নিয়েছে বাড়তি পরিবহনের ব্যবস্থা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারে  একটি অন্যতম আমের আড়তের এলাকা। বাজারের সামনেই গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক আমের আড়ৎ।

সেখানকার আম ব্যবসায়ী রাজিবুল ইসলাম(পলাশ)ফল বিতান বলেন, বর্তমানে ক্ষিরসাপাত(হিমসাগর) আম নেই বললেই চলে। আশপাশের দুই একটি বাগানে ক্ষিরসাপাত আম থাকলেও দাম বেশি।

এই বেশি দাম পাওয়ার আশাতেই এবার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়েরও অনেক পরে পরিপক্ক করে আম গাছ থেকে ভাঙছেন। কিন্তু ফলন কম হওয়ায় শেষ দিকে সরবরাহ কমে যাচ্ছে। তাই এখন কয়েক জায়গায় ক্ষিরসাপাত(হিমসাগর) পাওয়া গেলেও গত সপ্তাহের তুলনায় মণ প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি।

এর ওপর মাত্র ১০ দিন আগেই বাজারে ল্যাংড়া আম ওঠে। সেই আমও এখন শেষ পর্যায়ে। গত সপ্তাহেও বাজারে ২৪০০শ থেকে  ২৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আজ ল্যাংড়া আম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শেষ দিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমের দাম হঠাৎ করেই বেড়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

আম ব্যবসায়ী আরিফুল হক বলেন, জুন মাস প্রায় শেষ। তারপরও আম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষিরসাপাত(হিমসাগর) ও ল্যাংড়া আম পাওয়া যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন রমজান মাসে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ে এবার ব্যবসায়ীরা আম ভাঙেননি।এছাও রমজান মাসে সাধারণত আমের বাজার মন্দা থাকে বলে  সবার টার্গেট ছিল ঈদের পরের বাজার ধরার। রমজান ঈদের পর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তার আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে এক সঙ্গে আম ভাঙা শুরু হয়। এর পাশাপাশি পুরোদমে কেনাবেচাও জমে ওঠে  জুনের প্রথমে।

এখন জুনের শেষ সপ্তাহে এসে আড়ৎ এবং আমের বড় মোকামগুলোতে সরবরাহ কমে গেছে। এর ওপর গত বছরের তুলনায় এবার আমের ফলনও কম হয়েছে। মৌসুমের শুরুর দিক থেকে ঘন কুয়াশা এর পর তীব্র তাপদাহ এবং শিলাবৃষ্টিতে চাঁপাইনাবগঞ্জ সহ  আশপাশের জেলায় আমের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে এবার আমের ফলন কমেছে বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি জাতের আম। এবার জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে থেকে গুটি আম নামান চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রাজভোগ,দুধস্বর২৫ মে, ক্ষিরসাপাত বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষ্মণভোগ বা লখনা ২৬ মে থেকে নামানো হয়। এছাড়া ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম ৬ জুন থেকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় নামাতে পারেন আম ব্যবসায়ীরা। ১৬ জুন থেকে ফজলিও নামানো যাবে বলে অনুমতি ছিল।চাঁপাইনবাবগঞ্জের  বাগানগুলোয় এখনও ফজলি আম ভাঙা হয়নি। সব শেষ ১৭ জুলাই থেকে কিছুটা হলেও বাজারে নামবে আশ্বিনা জাতের আম এমটাই ধারনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ীরা।