চোখ আছে আলো নেই-তবুও কাঠমিস্ত্রি,৩০ বছরে জোটেনি প্রতিবন্ধির কার্ড

134
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলায় পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নে শাহজানপুর গ্রামে মৃত-শ্রী যুগোল চন্দ্র সুত্রধরের ছেলে শ্রী মিলন সুত্রধর(৫২) নাjমের এক যুবকের চোখ আছে চোখের আলো নেই। ৩০ বছর আগে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন।সেই থেকে তিনি দুর্বিসহর মধ্যে দিন যাপন করছেন। জীবনের তাগিদে বাবা দেয়া পেশা কাঠমিস্ত্রির হাল ধরে বেচে আছেন।
চোখের আলো নেই কিন্তু মনের দৃষ্টির দ্বারা কর্মকরে খাচ্ছেন। মিলন সুত্রধর জানান চোখের দৃষ্টি হারিয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে যাই ৩০ বছর আগে। জীবনের তাগিদে পেটের দ্বায়ে ঘুরেছি মানুষের দ্বারে দ্বারে। সংখ্যালঘুর অপরাধে মানুষের সহানুভুতি পেয়েছি খুব কম। এমন এক সময় ছিলো এই অন্ধকে দেখে মানুষ দুরে সড়ে যেত এমন কি নিজ স্বজনেরাও। সেই থেকে মনের মধ্যে জন্ম নিলো বেঁচে থাকার লড়াই।বাবার দেয়া শিক্ষা কাঠমিস্ত্রির কাজ বেছে নেই। চলছে এ ভাবেই তবুও ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বেড়ায়নি। কাজ করতে প্রথমে অনেক কষ্ট হয়েছে। আমি এ কাজ পারবো না ভেবে, আমার স্ত্রী,পুত্রের চোখে কান্না অনুভব করেছি। কিন্তু আমি হাল ছাড়ি নি। অল্প সময়ে অনুভোব করেছি, মানুষের কাছে হাত পাতার কষ্ঠের অনুভুতি।
ব্যবসা আগের মতো হয় না। বিভিন্ন উপকরনের মাধ্যে হাঁস মুড়গির খোপ বানিয়ে টিন কাঠের তৈরী হাঁস মুড়গির খোপের চাহিদা কমে গেছে আগের চেয়ে। বর্তমানে তিন ছেলে তিন মেয়ে সহ আট জন পরিবারের সদস্য নিয়ে দিনাপাত চলা খুব কষ্টের হয়ে পরেছে। আমাদের ওয়ার্ডের বর্তমান ও পূর্বের মেম্বরদের অনেক বলেও একটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর কার্ড করতে পারি নি। আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি আমাদের মতো অসহায় প্রতিবন্ধীদের প্রতি সাহায্যের হাত প্রসার করার জন্য।
পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বর জিল্লুর রহমান জানান আমি আগামীতে কার্ড আসলে তার নামে কার্ড করে দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম ফিরোজ জানান ঐ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর খবর আমি জানিনা তবে আমার সাথে যোগাযোগ করলে সরকারী নিয়মনুযায়ী আগামী জুলাই মাসে বরাদ্ধ আসার কথা, আসলে আমি অবশ্যই তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর কার্ড করে দেব।