ধুনটে বখাটের জিম্মিদশা থেকে ফিরে এলো মাদ্রসাছাত্রী

102

ইমদাদুল হক ইমরান: বগুড়ার ধুনট-সোনামুখী বাইপাস সড়কের চরপাড়া সেতু এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ৫ ঘন্টা পর বখাটেদের জিম্মিদশা থেকে কৌশলে বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছে কওমী মাদরাসার এক ছাত্রী।

থানা পুলিশ ও মাদরাসা ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের এক ট্রাক চালকের কিশোরী মেয়ে স্থানীয় একটি কওমী মাদরাসায় লেখাপড়া করে। ঈদের ছুটিতে মেয়েটি পাশ্ববর্তী বাটিকাবাড়ি গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যায়। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আত্মীয়র বাড়ি থেকে অটোভ্যানে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টায় ধুনট-শেরপুর সড়কের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নামে।

সেখান থেকে পায়ে হেটে বাড়ির দিকে রওনা হয়ে হুকুম আলী-সোনামুখী বাইপাস সড়কের চরপাড়া সেতুর নিকট পৌঁছে। এসময় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় মেয়েটিকে তুলে নেয় মুখে ম্যাক্স পরা ৪ বখাটে। তারপর মেয়েটিকে চেতনা নাশক ঔষধ নাকে ধরে অজ্ঞান করে একটি ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয়। প্রায় ৫ ঘন্টা পর মেয়েটি জ্ঞান ফিরে দেখে তাকে অজ্ঞাত এক যুবক পাহারা দিচ্ছে।

মেয়েটি সেখান থেকে পালানোর কৌশল খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে অজ্ঞাত ওই যুবকের মাথায় আঘাত করে মেয়েটি। তখন যুবকটি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এ সুযোগে মেয়েটি ধুনট-গোসাইবাড়ি সড়কে এলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে পৌছে দিয়েছে।

মেয়েটির মা বলেন, ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে এনে মেয়েকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। কি কারণে দূর্বৃত্তরা মেয়েকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়েছিল তা বলতে পারছি না। এখনো সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেনি। সুস্থ হওয়ার পর তার মুখে বিস্তারিত শুনে থানায় অভিযোগ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার মা-বাবার কাছে দেওয়া হয়েছে। মেয়েটির চোখেমুখে আতংকের ছাপ ছিল। এ কারণে সে খোলামেলা কিছু বলতে রাজি হয়নি।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়েটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।