হাসপাতালে ডাক্তার নেই, ভোগান্তি রোগীদের

196

তাড়াশ প্রতিনিধি: বিনামূল্যে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে সেবা পাওয়ার পরিবর্তে পদে পদে চরম ভোগান্তিসহ অর্থ ব্যয় করে ঔষুধ কিনেও সেবকদের দূর্ব্যাবহার আর কমিশন বাণিজ্যের কারণে কাংখিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা। অথচ উপজেলার সাড়ে চার লক্ষাধিক মানুষের সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসাস্থল হচ্ছে তাড়াশ ৫০ শষ্য বিশিষ্ট হাসপাতাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় ডাক্তার নেই, জরুরি বিভাগ, অন্য সকল বিভাগের খোলা থাকলেও ৯ জন ডাক্তারের মধ্যে ৩জন ডাক্তারকে দেখা যায়। ১৬ জুন রবিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১ টায় পর্যন্ত তাড়াশ ৫০ শষ্য বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আবাসিক ওয়ার্ডগুলো ঘুরে এমনই করুণ অবস্থা দেখা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, সেই সকাল ৭টয় এসে সিরিয়াল দিয়ে বসে আছি এখন ১১টা বাজে তবুও ডাক্তার নেই। প্যাথোলজিক্যাল বিভাগারে কার্যক্রম নেই বললেই চলে। রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে এলেই বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে, ইসিজি, আলট্রাসোনোগ্রাম, রক্ত ও প্রসাবের বিভিন্ন প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে ডাক্তাদের রোটেশন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের দৌরাত্ব পৌঁছেছে চরমে।

কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার জন্য সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও তোয়াক্কা করছেন না এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি অনিয়ম-দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উপজেলাবাসীর। এর ফলে হাসপাতাল থাকলেও কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতালে ডাক্তার নেই এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফরিদা ইসমিন বলেন, আমি ছুটি নিয়ে অফিসের জরুরি কাজে ঢাকাতে আছি। শুধু ডাক্তার ফারহানা বিলকিস ছুটি নিয়েছি। যেসকল ডাক্তার উপস্থিত ছিলো না তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আলট্রাসোনোগ্রামে মেশিন ও ডাক্তার নেই। এক্স-রে মেশিন আছে, অপরেটার নাই, ইসিজি’র পেপার নেই। অপরেটার ও ইসিজি পেপারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।