বাংলাদেশের লালমনিরহাটে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের তিস্তা ব্যারেজ

256

মো.হাসমত আলী: লালমনিরহাট জেলায় বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের তিস্তা ব্যারাজ ঘুড়ে আসুন ডালিয়া নামটি ফুলের মতো হলেও এটি একটি গ্রাম,যা দেখতে কোনো মনোহরিণীর মতো।সবুজে আচ্ছাদিত এ গ্রামটি আকর্ষণ করে সবচেয়ে পথচারীদের।ভারতের উত্তর সিকিমের পার্বত্য এলাকায় তিস্তার উৎপত্তি।

বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলাধীন গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী তে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের তিস্তা ব্যারাজ নির্মিত। কিছু অংশ পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলাধীন খালিসা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া- এর মধ্যবর্তী স্থানে তিস্তা নদীর উপর পরেছে।

তিস্তা পাড়ের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের মানুষ বারবার দাবী জানাচ্ছেন যে তিস্তা ব্যারাজ কে যেন বিনোদন পার্ক ঘোষনা করা হয়। এতে সরকারের কয়েক লাখ রাজস্ব আয় করতে পারবে।এ ব্যারাজে নিরাপত্তার জন্য রয়েছে আনসার ও পুলিশ সদস্য।

নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে নীলফামারী জেলা দিয়ে।এ নদী বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের সব কয়টি জেলা অর্থাৎ নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ওপর দিয়ে প্রবহমান।আশির দশকে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে তিস্তা নদীর ওপর গড়ে তোলা হয় বাঁধ। যাকে বলা হয় তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প।এ ব্যারেজটি তৈরির ফলে নীলফামারি, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার বিশাল এলাকা সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে।

নদীর মাঝখানে ব্যারাজ। যান্ত্রিক গেট! টানা ৪৪টি গেট একনাগাড়ে।এর আরেক পাশে আছে আরও আটটি গেট।খালে পানি নেওয়ার জন্য।অনেক গুলোই খোলা।তিস্তা নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে, পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় সেচের কাজে লাগানো হয় এই ব্যারাজ দিয়ে। লোহা-লক্কড়, কংক্রিটের বিশাল বিশাল সব কাঠামো।নদীর দুপাশে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ বেষ্টনী।

তিস্তা ব্যারেজকে ঘিরে তিস্তার পাড় সেজে উঠেছে অপরূপ সাজে।সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বেশ কয়টি পিকনিক স্পট।যা দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দলবেঁধে এখানে এসে পিকনিক করে।বর্ষাকালে তিস্তা যথেষ্টই ভরা ও খরস্রোত থাকে।খালটাও দেখার মতো।বিকেলে অনেকেই আসে বেড়াতে।

ব্যারেজের পাশে পিচ ঢালা কালো রাস্তা দু’পাশ কাশফুলে ঢাকা।অপুরূপ সে দৃশ্য। পিচঢালা সরু পথ ধরে চলতে চলতে মনে হবে এই পথ যেন শেষ না হয়।সবকিছু মিলিয়ে এটি দেখার মত একটি জায়গা। ভ্রমন পিয়াসুদের জন্য রয়েছে নৌকা ও স্পিড বোর্ড।মাত্র ৪০/৫০ টাকা স্পিডবোর্ডে ঘুরা এপাড় থেকে ওপাড় যাওয় যায়।