যশোরে খালাত ভাইয়ের হাতে খালাত ভাই খুন

89

মনিরুল ইসলাম চৌধুরী:  চৌগাছায় পুকুর ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে মোমিনুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আপন তিন খালাতো ভাই। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লস্করপুর গ্রামের বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত মোমিন ওই গ্রামের শামসুদ্দিন ওরফে ইসমাইলের ছেলে। 

চৌগাছা থানার  বলেন, গ্রামের একটি পুকুরের মালিক দুই ব্যক্তি। তারা গ্রামে থাকেন না। এদের এক ভাইয়ের কাছ থেকে পুকুর ইজারা নেন ইউনূস ও তার ভাইয়েরা। এরইমধ্যে পুকুরের মালিক আরেক ভাইয়ের কাছ থেকে পুকুরের ইজারা নেন মোমিনুর রহমান। সকালে সেই পুকুরে খুঁটিপুতে নেট জাল দিচ্ছিলেন মোমিনুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মমিনুরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার আপন খালাতো ভাই ইউনূস আলী, আলম ও মশিয়ার রহমান। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিহতের ভাতিজা ও স্ত্রী শেফালী বেগম জানান, সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে নেট দিচ্ছিলেন মোমিনুর। এসময় একই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ইঊনূস আলী, আলম ও মশিয়ারের নেতৃত্বে আলমের ছেলে তুষার, মশিয়ারের ছেলে সুমন, আলমের শ্যালক আবু বক্করের ছেলে নান্নু, ইঊনূস-আলমদের ভাগ্নে চুড়ামনকাঠি গ্রামের রাসেল, রাম-দা ও গাছি-দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এরপর তারা মোমিনুরকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিতসক মৃত ঘোষণা করেন।

চৌগাছা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিতসক ডা. সুব্রত কুমার বাগচী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের দুই হাত, বুক, পিঠসহ সমস্ত শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
চৌগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, নিহত মোমিনুর আওয়ামী লীগের কর্মী। হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। 

এ নিয়ে গত ৮ দিনে যশোরে তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটলো। মোমিনুর হত্যাকান্ডের আগের দিন বৃহস্পতিবার সকালে (১৩জুন) যশোর শহরের সন্নাসী দিঘীরপাড়ে মেয়েলি ঘটনায় ফেরদৌস (২০) নামে এক যুবককে প্রতিপক্ষরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তার আগে ঈদের পরের দিন ৬জুন সন্ধ্যায় শহরের রেলগেট এলাকায় পূর্ব শত্রুতার কারণে রেলস্টেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনির ছাত্র আব্দুল্লাহ খান (১৩) কে প্রতিপক্ষরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। যশোরে আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটায় একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর দায়িত্বে অবহেলা, ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া, ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অপরাধীরাদের বিচার না হওয়ায় দিনের পর দিন খুন, ধর্ষন, ও রাহাজানির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সচেত মহল মনে করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here