কোটিপতিরা নাম লিখিয়েছেন গৃহহীনদের তালিকায়

74

কালজয়ী রিপোর্ট: সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচী ‘কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা)’র প্রকল্পে সুবিধাভোগীদেরর তালিকায় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় নাম লিখিয়েছেন লাখপতি থেকে শুরু করে কোটিপতিরাও।

জেলার শাল্লা উপজেলায় কাবিটা প্রকল্পে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণের উপকারভোগীদের নামের তালিকায় এমন তথ্য জালিয়াতির ঘটনা জানাজানির পর গোটা জেলা জুড়ে এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা মুখরোচক আলোচনা সমালোচনা।

সচেতন মহলের তীর্ষক সমালোচনার মুখে বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীলারাও।  ওই উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যাচাই-বাচাই ছাড়াই এমন তালিকা অনুমোদন করায় তাদেও দায়িত্বহনিতার বিষয়টিও এড়ায়নি সচেতন মহলকে। শুক্রবার শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে কাবিটা’ কর্মসুচীর বিপরীতে শাল্লা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও)’র দফতর ওই উপজেলার ১৭টি গৃহহীন পরিবারের জন্য ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করে।

কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে উপকাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে সরকারি ম্যানুয়্যেল অনুযায়ি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই গত ১৩ মে তালিকাটি অনুমোদন করেন।উপজেলাবাসীর অভিযোগ, অনুমোদিত সেই তালিকায় ১৭টি উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে ৫টি পরিবার ছাড়া অন্যরা লাখপতি থেকে শুরু করে কোটিপতি ব্যক্তিদের নাম লিখিয়েছেন।

তালিকায় থাকা উপকারভোগীদের নামানুসারে অনুসারে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউপি’র ফরিদপুরের মামুদনগর গ্রামের আবু নছর মিয়ার ধনাঢ্য ব্যবসায়ি ছেলে মতিউর রহমান। তিনি ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদের জামাতাও বটে।এছাড়া একই গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে ইয়াহিয়া আলম, উজান ইয়ারাবাদ গ্রামের উকিল আলীর ছেলে কোটিপতি সালাম মিয়া ও ইউপি সদস্য বশির মিয়ার আপন ভাই আব্দুল হামিদের নামও রয়েছে।এদিকে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের অব. শিক্ষক অভিমূন্য দাসের ছেলে চিন্ময় দাস, মেঘনাপাড়া গ্রামের প্রাণধন দাসের স্ত্রী শ্রীমতি বালা দাস, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী ইমরানা বেগম অন্যতম।

অন্যদিকে উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের হামিদ মিয়ার স্ত্রী হোসেনা বেগমের কোনো জমি নাই, তার নাম দিয়ে আপন ভাসুরের ছেলে ধনাঢ্য হুমায়ুন মিয়ার পিতার জায়গায় নতুন ঘরটি তৈরি করে দেয়ার তোড়জোড় চলছে বলে অভিযোগে উঠেছে।

উপজেলার ভুক্তোভোগী অসহায় মহিলা মমিনা বেগম কাবিটার তালিকায় থাকা অনিয়মের বিষযে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। সিলেট গণদাবী পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলার আহবায়ক কমিটির সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, এমন তালিকা প্রণয়ন আর অনেুমোদনের পর খুব সহজেই বুঝা যায় ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইও মাঠ পর্যায়ে না গিয়ে অফিসে বসে শুধু শুধু ফাইল ওয়ার্ক করে নিজেদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

শাল্লা উপজেরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.আজিজুর রহমানের নিকট এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘তালিকা তৈরিতে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সঠিকভাবে যাচাই না করার কিছুটা ক্রটির কথা স্বীকার করে বললেন, পুন:রায় যাচাই-বাছাই করে নতুন করে তালিকা প্রণয়ন করা হবে।’

শুক্রবার বিকেলে একই বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেনের সরকারি মুঠোফোনে কল করা হলে ফোনের সুইস বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here