শালিখায় ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান

116

হিমাংশু দেব বর্মণ : শালিখা উপজেলার চুকিনগর-টিলাঘাটে পবিত্র গঙ্গাস্নান ও গঙ্গা পূঁজা অনুষ্ঠিত হয় বুধবার। এ উপলক্ষ্যে সারাদিন ছিল লাখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অতি প্রাচীনকাল থেকে এখানে এ অনুষ্ঠানটি চলে আসছে মহা ধূমধামের সঙ্গে।

সনাতন শাস্ত্রীয় মতে জামাই ষষ্ঠীর পরবর্তী দশহরা তিথি যোগে পবিত্র গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন মতে কলি যুগের মানুষের পাপ মোচনের উৎকৃষ্ট ধর্মীয় কৃষ্টি এই গঙ্গাস্নান। এদিন ভোর ৪টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই মা গঙ্গার পূঁজা, স্নান ও মেলা।

সেখানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেখা গেছে, দূর দুরান্ত থেকে আসা পূঁজা দর্শনার্থীরা ফুল, বেলপাতা, লবণ, চিনি, ডাব, গাব ইত্যাদি হাতে নিয়ে জলে নামছেন স্নান করতে। পাপ মোচন, শারিরীক সুস্থতা, সাংসারিক শান্তি ও উন্নতি এবং নানা রকম রোগমুক্তির কামনায় লোকের ভিড়ে ঘোলা হয়ে যাওয়া জলের মধ্যে ডুব দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন হাতের মুঠোয় ভরে রাখা সেই সব অর্ঘ্য।

টাকফাটা রোদ আর প্রচ- গরম উপেক্ষা করে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ মেলায় যাগ দিচ্ছেন দর্শনার্থী ও ভক্তগণ। যশোরের ঝিকরগাছা থেকে আসা একজন দর্শনার্থীর কাছে জানতে চাইলে উনি বললেন, মুরুব্বীদের মুখে শুনেছি পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপ ধাম আর এই টিলাঘাটের ধাম মা গঙ্গার আদিধাম। অতি প্রাচীনকালের এই তিথির এক রাতে এই ২ জায়গাতেই স্বয়ং দেবতারাই পূণ্যস্থান বলে জাগ্রত ও প্রচার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোন কারণে এখানকার কাজটি শেষ হওয়ার আগেই রাত ভোর হয়ে গিয়েছিল। তাই দৃশ্যতঃ এখানে পূর্ণ তীর্থস্থান হয়নি। তবে এটাও নবদ্বীপের মতোই পূর্ণ তীর্থস্থান, এতে কোন সন্দেহ নেই।

হ্যাঁ, দর্শনার্থীর এ কথাটি অত্র এলকার মানুষের মুখে সচরাচর শোনা যায়। তাছাড়া সেই রাতে যে দালান কোঠা বা মন্দির তৈরির জন্য ইটের গাঁথনি তৈরি করছিলেন, তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে মেলার বিপরীত পাড়ে। তার খানিক দূরে আছে ভাতভিটা ঢিবি। বলা হয় রাতে দেবদেবীরা এখানে রান্না করে সব ভাত এখানে ঢেলেছিলেন। সেই ভাত থেকে মাড় ঝরে ফটকীতে পতে গিয়ে পড়েছি। সেখানে তৈরি হয়েছিল একটি খাল। সে খালটি একনও বর্তমান আছে। আঞ্চলিক ভাষায় এখানকার লোকেরা ভাতের মাড়কে ফ্যান বলে। সেই নামানুসারে খালটির নাম করণ করা হয় ‘ফ্যানশা’র খাল। ভাতভিটা ঢিবিটি এখন প্রত্নতত্ব বিভাগের আওতায় আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here