বীরোচিত মুজিবুল হক!

205
নূরুল আলম আবির: লক্ষ নেতার ভীড়ে আপনি যাকে কালজয়ী নেতার তকমা দিতে পারেন চোখবুজেই— তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সফল রেলপথ মন্ত্রী জনাব মোঃ মুজিবুল হক এমপি। কালের গর্ভে শত-সহস্র নেতা হারিয়ে গেলেও মহাকাল যাকে অমর করে রাখবেন, মানুষের হৃদয়ে যিনি রাজা সেজে হাসবেন— তিনিই আমাদের মুজিবুল হক এমপি। যিনি আপাদমস্তক নিজেকে একজন কৃষকের সন্তান বলে গর্ব করেন— তিনিই রাজনীতির সর্বোচ্চ চূড়ায় আহরণ করেছেন। একবার ধর্ম মন্ত্রী, দুই বার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বীরোচিত ও সফল মন্ত্রী হয়েছেন। রেল যখন একজন জাঁদরেলি মন্ত্রীর অধীনেও কালো বিড়ালের বিড়ম্বনাময় নাটকের স্বাক্ষী হয়েছে, একের পর এক লোকসান হচ্ছিল— ঠিক তখন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিবুল হকের হাতে রেলের কর্তৃত্ব তুলে দিলেন। প্রিয় নেতা রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর রেলে এলো শৃঙ্খলা, এলো অগ্রগতি, এলো ঈর্ষণীয় সাফল্য। তরতর করে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে রেল চলল উন্নয়নের শিখরে। চরম অস্থির ও পিছিয়ে পড়া খাত রেলে আলোর পরশ লাগল। রেলের যেকোনো সমস্যার খবর মুজিবুল হকের কর্ণকুহরে প্রবেশ করা মাত্রই তিনি ছুটে গেছেন ঘটনাস্থলে। আমাদের প্রিয় নেতা খুবই অল্প সময়ের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করেছেন— এমন উদাহরণ অসংখ্য। মানুষ পেয়েছে মানসম্মত সেবা। প্রিয় নেতা মুজিবুল হক চলে এলেন দেশব্যাপী আলোচনার তুঙ্গে। তিনি চৌদ্দগ্রামের এমপি হয়ে বীরোচিত হলেন সারা দেশে। চৌদ্দগ্রামের জনপ্রতিনিধি হয়ে সম্মানিত করলেন আমাদের সবাইকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণে গিয়ে চৌদ্দগ্রামবাসী গর্ব করে তখন বলতে শুরু করেন— আমার বাড়ি রেলপথ মন্ত্রীর চৌদ্দগ্রামে।
সারা চৌদ্দগ্রামে আপনি চোখ মেলে তাকালেই আপনার দৃষ্টিগোচর হবে মুজিবুল হকের উন্নয়ন, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন। চৌদ্দগ্রামের হৃদয়জুড়ে মুজিবুল হকের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছু নেই। এখানে আঁকাবাঁকা মেঠোপথ হয়েছে কালো পিচঢালা রাস্তা। টিনশেডের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগুলো হয়েছে বহুতল পাকা দালান। মসজিদ, মন্দির, মক্তবসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সেরা অভিভাবক হয়ে উঠেছেন আমাদের মুজিবুল হক। কারণ এগুলোর উন্নয়নে তিনি বিরতিহীন নগদ আর্থিক অনুদান, উন্নয়ন কর্মযজ্ঞসহ সকল ক্ষেত্রে দুহাত ভরে সহযোগিতা করেছেন। সারা চৌদ্দগ্রামে শতভাগ বিদ্যুতায়ণ শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্যের  অংশ হলেও মুজিবুল হক মুজিব ভাই দিনরাত পরিশ্রম করে তা বাস্তবায়ন করেছেন। একজন সহায়হীন, আশ্রয়হীন মানুষও মুজিবুল হকের দরবারে পৌঁছে বুকে জড়ানো ভালোবাসা সমেত সহযোগিতা ছাড়া ফিরে আসেননি। একজন বিরল ও তুমুল জনপ্রিয় মন্ত্রী হয়েও অতীব ক্ষুদ্র কণা পরিমাণ অহংকার যাকে স্পর্শ করতে পারেননি তিনি আমাদের নেতা চৌদ্দগ্রামের নেতা মুজিবুল হক মুজিব। সাধারণ মানুষের হৃদয় গহীনে যার চুপিচুপ আবাস, মানুষকে ভালোবেসে মানুষের সেবা করে যিনি মানুষের হৃদয় সিংহাসন জয় করেছেন তিনি আমাদের গর্বিত নেতা বীরোচিত নেতা মোঃ মুজিবুল হক মুজিব এমপি।
সাবেক সফল রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এমপি ১৯৪৭ সালের ৩১শে মে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের সবুজ ছায়াময় গ্রামবাংলার বসুয়ারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই জনপ্রিয় নেতার পিতা মরহুম রজ্জব আলী একজন ফরহেজগার মুসলমান ও সহজ-সরল কৃষক ছিলেন। মুজিবুল হকের মা রত্নগর্ভা মরহুমা সোনাবান বিবিও ছিলেন খুবই ধার্মিক ও অত্যন্ত পর্দানশীল। মুজিবুল হকের মা-বাবাও ছিলেন দানবীর। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ পিতা-মাতার আট পুত্র ও এক কন্যার মাঝে মুজিবুল হক সবার ছোট।
গ্রাম্য মক্তবে ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা জীবন শুরু করেন। তারপর নিজ গ্রামের পাশের স্কুল উত্তর পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এরপর বসুয়ারা থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কাশীনগর বসন্ত মেমোরিয়াল (বিএম) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অতঃপর ১৯৭০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে বি.কম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বি.কম পাসের পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান এবং সেখানে সিএ (চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট) ফার্মে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চলাকালীন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বীরদর্পে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি দুঃসাহসের সাথে অংশগ্রহণ করেন। বিএলএফ অর্থাৎ মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুজিবুল হক মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে দুঃসাহসী ভূমিকা রাখেন।
সাবেক সফল রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এমপি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি একই আসনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে ৭ম সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮-২০০১ সালে তিনি মহান জাতীয় সংসদের হুইপ (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন) নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-১১ আসন চৌদ্দগ্রাম থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি আবারও মহান জাতীয় সংসদের হুইপ নিযুক্ত হন।
২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিবুল হককে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। গত ২১শে নভেম্বর ২০১৩ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত করেন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। ২০১৩ সালের ২৪শে নভেম্বর তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও এসময় তিনি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সম্মানিত সদস্য মনোনীত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোঃ মুজিবুল হক চৌদ্দগ্রাম থেকে পুনরায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আবারও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। এ নিয়ে তিনি তিনবার মন্ত্রিসভার সম্মানিত সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে চৌদ্দগ্রামের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান।
বাবা হিসেবেও তিনি চমকপ্রদভাবে সফল। জীবনের শেষের দিকে ৬৭ বছর বয়সে তিনি মহান আল্লাহর হুকুমে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন অপরূপ সুন্দরী রমনী এডভোকেট হনুফা আক্তার রিক্তাকে। এডভোকেট হনুফা আক্তার রিক্তা প্রিয় নেতার দায়িত্ব নেয়ার পর মেয়ে সন্তানের বাবা হলেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক। শখ করে বড় আয়োজন করে মেয়ের নাম রাখেন জান্নাতুল মাওয়া রিমু। রিমুর জন্মের প্রায় কয়েক বছরের মাথায় আল্লাহর অশেষ রহমতে দুই জমজ পুত্র সন্তানের বাবা হন সকলের প্রিয় নেতা মুজিবুল হক। দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা হয়ে গড়েছেন একটি স্বপ্নীল সংসার। চৌদ্দগ্রাম তথা কুমিল্লার গণমানুষের প্রিয় নেতা সাবেক সফল রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এমপিকে মহান আল্লাহ নেক হায়াত ও সুস্থতা দান করুক। আমিন
লেখকঃ কবি, লেখক ও সাংবাদিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here