দুই বন্ধুর ঈদ

408
নূরুল আলম আবির: —রনি, স্কুলে যাবি চল। এইতো আর কয়দিন পরই তো রোজা ও ঈদের বন্ধ পড়ে যাবে। এখন স্কুল মিস করা ঠিক হবে না। যা, যা বই নিয়ে আয়।
—তুই একটু দাঁড়া আরিফ, আমি যাব আর আসব। -একথা বলে চোখের পলকে দৌড়ে গিয়ে বই নিয়ে আসে রনি। তারপর বন্ধু আরিফসহ স্কুলের দিকে পথ চলল তারা। গল্প ও কথার তোড়ে দু’জনে হাসি আর আনন্দের দোলে মশগুল হয়ে পড়ল মুহূর্তেই।
রনি আর আরিফ ক্লাস এইটে পড়ে। ওরা দু’জন বেশ ভালো বন্ধু। -এটা জানে তাদের স্কুলের সহপাঠীরা এবং জানে গ্রামের ছেলে বুড়ো সবাই। দুজন স্কুলে গেলে এক সাথে যায়। আবার স্কুল মিস করলে একসাথে মিস করে। দূরে কোথাও মেলায় বা ভ্রমণে গেলেও দুজন একসাথে। খেলার মাঠে খেলতে গেলেও একজন অন্যজনকে ডেকে এনে খেলে। কোনোদিন খেলে দুজন দুই দিকে। কোনোদিন আবার একদিকে একসাথে। ক্রিকেট খেলার দিন রনি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান হয়ে ক্রিজে নামলে আরিফ প্রস্তুত থাকে বল হাতে। আবার আরিফ ব্যাটিং করলে রনি ছোটে বল হাতে। কোনোদিন আরিফের বলে ছক্কা হাঁকায় রনি আবার কোনোদিন মারাত্মক গতির বলে বোল্ড হয় সে। বন্ধুর বলে বোল্ড হলেও আনন্দ পায় রনি। প্রিয় বন্ধুর চমৎকার বলে বোল্ড হলেও খুশি লাগে তার। খেলার ফলাফল যাই হোক না কেন, দুজন থাকে তখন বেজায় খুশি। সব সময়ই বন্ধুত্বের বন্ধনে তারা থাকে সুখের রাজ্যের মহারাজা হয়ে।
কয়েকদিন পর রমজান ও ঈদের বন্ধ পড়ে গেল। দুই বন্ধু এখন মুক্ত বিহঙ্গের মত। স্কুল নেই, পড়ার শাসন নেই, সময় মত স্কুলে যাবার তাড়া নেই। রোজা শুরু হলো। রোজা রেখেছে রনি। আরিফ রাখেনি। আরিফকে রনি বলল— তুই রোজা রাখলি না যে?
— আম্মু বলেছে, আমি ছোট। বড় হলে রাখতে পারবো।
— এখন থেকে যদি অভ্যাস না করিস, বড় হলে রাখবি কি করে?
আরিফ তার মাথায় আঙ্গুল ঠেকিয়ে চিন্তা করল— ঠিকই তো। এখন থেকে আমি যদি অভ্যাস না করি, বড় হলে তো রোজা রাখতে পারবো না। কয়েক মুহূর্ত কাল ভেবে আরিফ বলল— দোস্, কাল থেকে আমিও রোজা রাখবো। কারণ আমরা মুসলিম। আমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। রোজা না রাখলে, নামাজ না পড়লে— আমরা জান্নাতে যেতে পারবো না।
রনি বলল, তুই ঠিক বলেছিস বন্ধু। ইসলামের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ— কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত। মহান আল্লাহ ও আমাদের প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশমত এই পাঁচ স্তম্ভ না পালন করলে আমরা জান্নাতে যেতে পারবো না। জাহান্নামের প্রবল উত্তাপের আগুনে বছরের পর বছর জ্বলতে হবে। এখন একটু আগুনের ছ্যাঁকা লাগলে আঁতকে উঠে কেঁদে ফেলি। আর তখন কিভাবে জাহান্নামের আগুনে জ্বলব? — এসব কিছু আমাদের মক্তবের হুজুর বলেছে। তোর মনে নেই?
আরিফ বলল, হ্যাঁ। মনে আছে। হুজুর আরো বলেছে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমরা যা করি, তা যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করি। আর হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল। আরিফ তারপর একটু গম্ভীর ও শান্ত হয়ে বলল, আম্মু বারণ করলেও আমি কাল থেকে রোজা রাখবো। আম্মু হয়ত আমার কষ্ট হবে বলে বারণ করেছে। রনি, তুই জানিস? আম্মু আমাকে প্রতিদিন বলে, আমি যেন সবসময় সত্য কথা বলি আর মানুষের ক্ষতি না করি। আমার আম্মু খুব ভালো।
দ্বিতীয়দিন থেকে রোজা রাখতে শুরু করেছে আরিফও। এতে আরিফের মা আরো খুশি হয়েছে। আরিফ বলল— তার মা তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে বুকে জড়িয়ে বলল— তুই অনেক বড় হ খোকা। আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন তোরে নেক সন্তান হিসেবে কবুল করে।
— আরিফ বলল- মা, তুমি আমার বন্ধু রনির জন্যও একটু দোয়া কর। কারণ সে আমাকে খুউব ভালোবাসে। আমার বিপদে সে সবসময় আমার পাশে থাকে। তুমি জান মা? সে-ই আমাকে রোজা রাখতে বলেছে।
ঠিক আছে বলে, আরিফের মা মরিয়ম বেগম নিজের কলিজার টুকরো খোকা আরিফ ও তার বন্ধু রনির জন্য প্রাণভরে দোয়া করল। দু’হাত তুলে চোখের জলে সিক্ত হয়ে মরিয়ম বেগম বললেন, হে আল্লাহ। হে আমাদের অতি সুমহান প্রভু। আপনি আমার খোকা আরিফ ও তার বন্ধু রনিকে নেক সন্তান হিসেবে কবুল করুন। তাদের দু’জনের জ্ঞান ও সম্মানকে আপনি বাড়িয়ে দিন। তারা যেন সারাজীবন একসাথে থেকে সব সময় ভালো কাজ করতে পারে এবং মানুষের কল্যাণ করতে পারে; আপনি তাদেরকে সেই তৌফিক দান করুন, আমিন। সেদিন মায়ের সাথে আরিফও আমিন বলেছিল।
আর কয়দিন পরই ঈদ। সবাই ঈদের জামা পরবে, মজার মজার খাবার খাবে। খুব মজা করবে। কিন্তু রনির কপালে সে আনন্দ জুটবে না। কারণ তার বাবা একজন গরীব দিনমজুর। দুইবেলা দুই মুঠো খাবার খেতেই তাদের যেখানে দিনরাত লড়াই করতে হয়; সেখানে নতুন জামা পরা, সেমাই-গোসত খাওয়া তো অনেক দূরের স্বপ্ন। বাড়ির পাশের মাঠে সবুজের বুকে একা একাই গভীর মনে এসব ভাবছে রনি।
পড়ন্ত বিকেল। দূরের গাছের ছায়া এসে পড়েছে রনির গায়ের উপর। সুনসান নীরবতায় স্নিগ্ধ বিকেলটা বেশ ভালো সাজলেও রনি কিন্তু ভালো নেই। এক ভাই দুই বোনের পরিবারে রনি সবার বড়। সবার বড় হলেও কারো জন্যই কিছু করতে পারছে না সে। ইস্ আমি যদি বাবার সাথে ঠেলা ঠেলে, নয়ত মজুরী খেটে কিছু টাকা জমাতাম! আজ সেই টাকায় মা, বাবা আর বোনদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারতাম। আমি আসলেই একটা অকর্মণ্য ছেলে। আমি এ জগতে সবার কাছেই মূল্যহীন। আমি কারো জন্যই কিছু করতে পারছি না।
রনির এমন কূলহীন কিনারাহীন ভাবনার মাঝেই আরিফ এল। এসেই বসল রনির পাশে। আরিফ বন্ধুকে বলল, কি খবর রনি? একা একা এভাবে গোমরা মুখে বসে কি ভাবছিস?
— না। তেমন কিছু না। একা একা বসে থাকলে এমনিতেই অনেক ভাবনা এসে ভীড় করে হৃদয় আকাশে। তখন মন না চাইলেও ভাবতে হয়, চিন্তা করতে হয়।
— এই বয়সে তোর আবার কিসের চিন্তা? তোর কি মনে নেই জসীম স্যারের কথা? স্যার কয়েকদিন আগে ও তো বলল, সবচেয়ে মজার জীবন হলো ছাত্রজীবন। এ সময় মনের আনন্দে জ্ঞান আহরণ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নেই, আর কোনো ভাবনা নেই।
— আরিফ, তারপরও কিছু কিছু ছাত্র আছে— যাদের এর বাইরেও কাজ করা উচিত এবং চিন্তা করা উচিত। বাদ দেয় এসব কথা। এখন কোথা থেকে এলি?
এলাম মায়ের বকুনি খেয়ে। তুই জানিস আমার বেশ মজা লাগে মায়ের বকুনি খেতে। যতবড় অপরাধই করিনা কেন মা কখনো মারে না। শুধু একটু বকাঝকা, বাস্ সব কিছু এখানেই শেষ। আর বাবা হলে ঠিকই উত্তম মধ্যম দিত।
— তুই ঠিক বলেছিস আরিফ। এ জগতে আমাদের সবার আপন মা, তারপর বাবা। ওরা না হলে আমরা এ পৃথিবীতে হয়ত বেঁচে থাকতে পারতাম না। এক পৃথিবী ক্ষুধা আর পিপাসা নিয়েও যদি মায়ের দিকে তাকাই, মনে হয় সব চাওয়া পাওয়া মায়ের মমতার কাছে হেরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। মা এমনই একখান রত্ন যার দাম কেউ দিতে পারে না।
রনির এমন কথা শুনে চোখের কোণায় জল এসে জমে উঠে আরিফের। তার মমতাময়ী মায়ের কথা মনে হতেই সে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ল। বন্ধুর এমন অবস্থা চোখে পড়তেই রনি তাকে বুকে জড়িয়ে বলল— মায়ের পর বন্ধুর ভালোবাসাও কম নয়। যেমন তুই আর আমি। আমরা দুজন দুজনের জন্য বড্ড বেশী পাগলরে। কোনোদিন যদি তুই হারিয়ে যাস আমার জীবন থেকে, আমি কিন্তু একদিনও বাঁচতে পারব না।
— আরিফ, রনির মুখে হাত চেপে ধরে বলল, আমিও কি বাঁচব? এসব কথা বলে না পাগল?
ঈদের আর দুদিন বাকী। রনির বাবা রমিজ উদ্দিন বহু কষ্টে এক কেজি মাংস ও কিছু সেমাই কিনে আনল। চিনি কিনতেও টাকা নেই। কোনো উপায়ন্তর হলে হয়ত চিনির ব্যবস্থা করা যাবে। আর নাহলে চিনি ছাড়া লবণাক্ত সেমাই খেতে হবে তাদের। রনির মায়ের রমজানের আগে বুকের ব্যথাটা বেড়েছিল খুব। এটা মাঝে মধ্যেই দেখা দেয়। তখন রনির মায়ের চিৎকারে বাড়ির সবাই ছুটে আসে। এই বুঝি যমদূত এসে রনির মায়ের কলিজাটা ছিঁড়ে নিয়ে গেল। এই বুঝি তার প্রাণবায়ুটা বের হয়ে এল। এসময় রনির মা সবার কাছে নিজের ছেলেমেয়েগুলোকে দেখে রাখার অনুরোধ করতে থাকে। রনি ও তার দুই বোন আর রনির বাবা তখন চারপাশে গড়িয়ে গড়িয়ে কাঁদে। রনিও কাঁদে শুয়ে বসে, তবে এত চেঁচায় না সে। এ সময় তার হু হু করে মনে পড়ে যায়, প্রিয় মায়ের চমৎকার সব মমতা মাখা গল্প-কথা। মায়ের হাতের খাবার, মায়ের হাতে মাথা আঁচড়ানো আর স্কুলে যাওয়ার বকাঝকা। এসব মনে হতেই নীরবেই হুর হুর করে রনির ব্যথাযুক্ত চোখের জল তার নাক গাল বেয়ে বুকের জমিন ভাসিয়ে দেয়।
ঈদের আগের দিন সকালে রনি চুপিচুপ বসে আসে বাড়ির আঙিনায়। উঠোনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি গাছের গুঁড়ির উপর বিপরীত দিকে মুখ করে বসে আছে রনি। আরিফ, রনির খুঁজে এল তাদের বাড়ি। রনি, রনি বলে ডাকতে ডাকতেই সে প্রবেশ করল বাড়িতে। একটি একচালা ঘরের মালিক রানিরা। তার পাশেই একটি-দুটি টিনের আশ্রয়ে রান্না-বান্না সারে রনির মা। উঠোনের পূর্ব পাশে রনির বাবার ভ্যানগাড়িটা চুপিচুপ দাঁড়ানো।
আরিফের ডাকে পেছন ফিরল রনি। বলল, কিরে আরিফ, কেন এত ডাকাডাকি। রনির এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আরিফ সোজা গিয়ে রনির পাশে বসল। বসেই বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে বলল, কি করিস একা একা? চল, তোর সাথে কথা আছে। আম্মু ডেকেছে।
—এখনই যেতে হবে?
—হুম এখনই।
— চল তাহলে। তুই বললে কি আর না গিয়ে থাকতে পারি!
আরিফদের বাড়ি গিয়ে রনি তো হতবাক! তাদের ঘরের মেঝেতে বিশাল বড় এক কাপড়ের স্তূপ। দলে দলে মানুষ আসছে, আর আরিফের বাবা-মা একের পর এক মানুষকে এগুলো বিলি করছে। রনিকে দেখে একটু এগিয়ে এলো আরিফের মা। হাত চেপে ধরে, কেমন আছ বাবা বলে ঘরে নিয়ে গেল। আরিফ গেল তাদের পিছন পিছন। ঘরের পশ্চিম পাশের নীরব কামরায় রনিকে নিয়ে তিনি বসে পড়লেন। রনির ওই পাশে গিয়ে বসল আরিফও। এমন সময় আরিফের মা বলল— শোন বাবা, রনি। তুমি আমার ছেলের মত। আমার আরিফ আর তুমি বন্ধু। তাই আমি আরিফকে নিয়ে তোমার জন্য শপিং করেছি। তুমি না করতে পারবে না। এভাবে কথা বলতে বলতেই— একই ব্র্যান্ডের একটি হলুদ ও একটি সবুজ পাঞ্জাবী বের করলেন তিনি। বের করে বললেন, তুমি আগে নাও যেটা তোমার পছন্দ হয়। রনি তার বন্ধুর মায়ের ভালোবাসা আর চমৎকার সুন্দর পাঞ্জাবী দেখে যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে একদম চুপ, কোনো কথা নেই।
এরপর রনি বলল, কিরে রনি একটা নেয়। আমি পছন্দ করেছি। মা কিনে দিয়েছে। নেয় একটা। নইলে আমিও পরবো না। এবার মুখ খুলল রনি। না বন্ধু তুই আগে নেয়। আমি পরে নেব। আরিফ শর্ত জুড়ে দিয়ে বলল, আমি পছন্দ করে কিনেছি। তাই তুই আগে নিবি। আর তুই থাকলে তোরটা তুই পছন্দ করতি। এখন তোকেই আগে নিতে হবে।
রনি এবার ভাবনায় পড়ে গেল— কোনটা রেখে কোনটা রাখবে। এমন ভাবনার মাঝেই রনির মনে পড়ে গেল, আরিফ সবুজ পাঞ্জাবী বেশি পছন্দ করে। তাই সে এক মুহূর্তকাল চুপ থেকে বলল, ঠিক আছে আমি হলুদ পাঞ্জাবীটাই নিলাম। আরিফ জানে, রনির পছন্দ হলুদ পাঞ্জাবী। তাই সে রনির জন্য একটা হলুদ  পাঞ্জাবী কিনল— একই দামের, একই ব্র্যান্ডের। এখন পরে দেখ, দেখি কেমন লাগে, বলল আরিফ। আরিফের মা ও বলল, হুঁ রনি পরো তো দেখি কেমন লাগে। এরপর রনি পরলো হলুদ পাঞ্জাবী আর আরিফ পরল সবুজ পাঞ্জাবী। দুই বন্ধুকে নতুন পাঞ্জাবীতে দারুণ মানিয়েছে। তোরা দুজন যেন আমার দুই আদরের খোকা। -একথা বলতেই আরিফ ও রনি দুই বন্ধু মায়ের চরণ চেপে ধরে বলল, আমাদের দোয়া কর মা। আমরা যেন সারাজীবন এরকম একসাথে থাকতে পারি। মরিয়ম বেগম দুজনকেই বুকে জড়িয়ে বলল, তোরা আজ থেকে আমার বুকের দুই হীরে মানিক। এ কথা শুনে রনি আর না কেঁদে পারলো না। রনির কান্না দেখে আরিফ  তার বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে, বন্ধুর চোখের জল মুছে দিল। অশ্রু মুছে দিতে দিতেই বলল— কিরে রনি তুই জানিস না? তুই কাঁদলে তো আমাকেও কাঁদতে হবে। তাই কান্না থামা। ঈদের সময় কোনো কান্না নয়। শুধু হাসি, খুশি আর আনন্দ।
এরপর আরিফের মা, রনির হাতে আরো একটি হলুদ শার্ট তুলে দিয়ে বলল, এই নাও বাবা— এটা তোমার। আর একটা সবুজ শার্ট আরিফকে দিয়ে বলল, ধর আরিফ এটা তোর। রনির চোখে এইবারও আনন্দ অশ্রু আসতে চেয়েছিল। তা সে বহু কষ্টে থামিয়েছে।
আরিফের মা, রনির মায়ের জন্য দুটি কাপড়, বাবার জন্য একটি লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবী আর তার দুই বোনের জন্য দুটি চমৎকার সুন্দর জামা হাতে দিয়ে বলল, নাও— এগুলো তোমার মা, বাবা আর ছোট্ট দুই বোনের। রনি সালাম দিয়ে, নতুন জামাকাপড়গুলো নিয়ে বাড়ির দিকে নীরবেই পথ চলল। আর এদিকে আরিফকে তার মা সেমাই, চিনিসহ ঈদ সামগ্রীর সাথে আরিফের হাতে দুই হাজার নগদ টাকা দিয়ে বলল— এগুলো রনির মাকে বুজিয়ে শুনিয়ে দিয়ে আসবি তুই। আমার সালামও দিবি উনাকে।
নতুন পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে, হরেক রকম নতুন জামাকাপড় নিয়ে রনি বাড়ির আঙিনায় পৌঁছতেই চোখ পড়ল তার মায়ের। দৌড়ে এসে বলল, কিরে বাবা এত সুন্দর নতুন জামাকাপড় কোথায় ফেলি? আরিফ বলল, আমার আব্বু আম্মু কিনে দিয়েছে। —এমন সময় এই নেন আন্টি, আম্মু আপনাকে সালাম জানিয়েছে বলে ঈদ সামগ্রী ও টাকাগুলো দিয়ে দৌড়ে চলে গেল আরিফ। খুশিতে কেঁদে ফেলল রনির মা। মায়ের অশ্রু দেখে রনিও কাঁদল আপন মনে।
কাঁদতে কাঁদতেই রনির মা বলল, জগতে এখনো ভালো মানুষ আছেরে বাবা। তুই বড় হলে ওদের এই দান কোনোদিন ভুলিস না খোকা।
— হ্যাঁ মা। কোনোদিন ভুলব না। মরে গেলেও না। তারপর মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না জুড়ে দিল রনি।