যার সেকেন্ডের ইনকাম ছিলো ৮ কোটি টাকা!

330
ফয়সাল আরেফিনঃ শেষ তিন অলিম্পিকে উসাইন বোল্টের অর্জন “৯ টি গোল্ড” যার জন্য তাকে ট্র‍্যাকে দৌড়োতে হয়েছে মাত্র ১১৫ সেকেন্ড।
আর এই ১১৫ সেকেন্ড এর জন্য তার অফিশিয়াল উপার্জন প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা)।
অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ড পারফরম্যান্স’এর জন্য তার আয় ১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮ কোটি’রও বেশি।
মাঠে গিয়ে বা টিভিতে যখন আপনি উসাইন বোল্ট’কে দেখেন, তখন তা কেবল মাত্র ১০ সেকেন্ডেরই পারফর্মেন্স। যে গুরুত্বপূর্ণ দিক’টা আপনি দেখতে পাননা, তা হচ্ছে উসাইন বোল্টের ২০ বছরের প্রতিদিনকার ঘাম ঝরানো পরিশ্রম।
বিজনেস এর বিষয়টা অনেকটা এরকমই, আপনি ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটস, জেফ বেজোস দের দেখে হয়তো বলবেন, “ওরা কি এক কোম্পানি খুইলা বইসে, খালি টাকা আর টাকা। কোনো কাজ করা লাগেনা।”
হ্যা পাঠক, আমি আপনার সাথে একমত । তাদের কোনো কাজ করা লাগেনা।
ওয়ারেন বাফেট এর কথা আর কি বলব, বছরে দুইবার কোম্পানির CEO দের কাছ থেকে যাবতীয় জবাবদিহি করেই লাপাত্তা হয়ে যান!!
আপনি দেখছেন কোম্পানি তাদেরকে কিভাবে বছরের পর বছর দুহাত ভরে বিলিয়ন ডলার তুলে দিচ্ছে। কিন্তু আমরা ক’জনই বা জানি, দেউলিয়া হবার অবস্থা থেকে তুলে ওয়ারেন বাফেট কিভাবে বার্কশায়ার হাথওয়ে’কে আজ শীর্ষ ১০ এর একটি ইন্ডাস্ট্রিতে এনেছেন?
এমাজন বা মাইক্রোসফট কতটা প্রতিকূল অবস্থা থেকে আজকের এই অবস্থায় এসেছে সেটা আপনি কখনোই বিজনেস ম্যাগাজিন বা মিডিয়া’তে দেখতে পাবেননা।
বিজনেসম্যান কিংবা স্পোর্টস পার্সনদের সাফল্যটা ঐ “আড়ালে থাকা রাস্তা” দিয়েই  আসে। দিনের পর দিন ঘাম ঝরানো পরিশ্রম কিংবা বছরের পর বছর ব্যর্থ হয়ে শূন্য থেকে শুরু করার নামটাই প্রকৃত বিনিয়োগ। আর ভালো বিনিয়োগে মোটা অঙ্কের মুনাফা আসবে এটাই স্বাভাবিক।
আমার দেশের মানুষ বিনিয়োগের একমাত্র উপাদান ধরে নেয় টাকা’কে। যদিও টাকার চেয়েও বড় বিনিয়োগ হলো “সময়” যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ “শিক্ষাজীবন”।
কয়েক মূহুর্ত জয়ের স্বাদ পাবার জন্য বছরের পর বছর পরিশ্রম করার নামই ইনভেস্টমেন্ট, যেমনটা বলেছিলাম উসাইন বোল্টের ক্ষেত্রে।
গ্রেটেস্ট এথলেট অফ অল টাইম মুহাম্মদ আলী’র একটি উক্তি মনে পড়ছে, তিনি একদা বলেছিলেন, –
“I hated every minute of training but I love being a world champion.”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here