আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর

134

কে এম রায়হান: আজ শনিবার দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। সেই মহিমান্বিত রজনী- যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন- নিশ্চয়ই আমি পবিত্র কোরআন লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রজনীতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে প্রত্যেক বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন। এটা শান্তিময় রজনী, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কদর)। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী আজকের রাতটি পবিত্র লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। হজরত উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে রজনীকে কদরের রাত হিসেবে কিয়ামুল লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা হলো রমজানের ২৭তম রজনী। (সহিহ মুসলিম)। প্রায় মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে আজ রাতে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ পবিত্র লাইলাতুল কদর পালন করবেন। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে নামাজে দণ্ডায়মান থাকবে, তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)। হজরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (স) এরশাদ করেন- যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও, তা হলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত করো। (মিশকাত শরিফ)। হজরত ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স) এরশাদ করেন, রমজানের ২৭ তারিখের রাতের ভোর পর্যন্ত করা ইবাদত-বন্দেগি আমার কাছে সারা রমজানের অন্য সব রাতের ইবাদতের চেয়ে বেশি প্রিয়। (তিরমিজি)। কদরের রাতে অঝোরে দয়াময় রবের বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অভূতপূর্ব শান্তি বিরাজমান থাকে। রাসুল (স) এরশাদ করেন- শবেকদরের রাতে হজরত জিবরাইল (আ) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা তসবিহ-তাহলিল আদায়ে রত থাকেন, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মাজহারি)। লাইলাতুল কদরে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত ভাগ্যলিপি ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রতিটি মানুষের রিজিক, বয়স, মৃত্যু ইত্যাদির উল্লেখ থাকে। এমনকি এ বছর কে হজ করবে, তা-ও লিখে দেওয়া হয়। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন)। কদরের রাতে, বিশেষ করে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ পাঠ, দরুদ শরিফ ও ইস্তেগফার আদায় করা চাই; তওবা করে আল্লাহতায়ালার দরবারে রোনাজারি করা চাই, যেন তার অপার রহমত নসিবে জোটে, যেন তার ক্ষমা লাভ হয়। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলকে (স) জিজ্ঞেস করলাম- হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি, তবে আমি কী করব? তখন রাসুল (স) আমাকে এই দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন। আর তা হলো- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমার আধার, আর ক্ষমা করাকে আপনি ভালোবাসেন। কাজেই আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি)।